এই দুর্ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাঁর মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যুর ক্ষেত্রে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা জরুরি এবং সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত হলে তবেই সত্য সামনে আসবে।

শরদ পাওয়ার এবং অজিত পাওয়ার
শেষ আপডেট: 28 January 2026 19:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের বারামতীতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় (Baramati Plane Crash) রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্যুকে (Ajit Pawar Plane Crash) ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। দুর্ঘটনার নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর দাবি, ঘটনার গুরুত্ব ও প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে তদন্ত হওয়া উচিত। তবে এই বক্তব্যের ঠিক উল্টো সুর শোনা গেছে এনসিপি নেতা তথা অজিত পাওয়ারের কাকা শরদ পাওয়ারের (Sharad Pawar) মুখে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কোনও ষড়যন্ত্র নেই - এটি নিছক দুর্ঘটনাই।
বুধবার বারামতী বিমানবন্দরের অদূরেই দুর্ঘটনাটি (Ajit Pawar Death) ঘটে। বিমানবন্দর থেকে কয়েক মিনিট দূরের একটি জাতীয় সড়কের উপর বসানো সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী। সেই স্থানেই আছড়ে পড়ে অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমানটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানটি বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছন উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসনের আধিকারিকরা।
এই দুর্ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এই ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাঁর মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যুর ক্ষেত্রে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা জরুরি এবং সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত হলে তবেই সত্য সামনে আসবে।
তবে শরদ পাওয়ার এই আশঙ্কা খারিজ করে দিয়েছেন। ভাইপোর মৃত্যুর পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “এটা কোনও ষড়যন্ত্র নয়, একেবারে দুর্ঘটনাই। অজিত চলে যাওয়ায় মহারাষ্ট্র অনেক ক্ষতির সম্মুখিন হবে। রাজ্য এক জন বড় মাপের মানুষকে হারাল। এই ক্ষতির কোনও ক্ষতিপূরণ হয় না।”
পরবর্তীতে আরও আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় শরদ পাওয়ার বলেন, “সব কিছু আমাদের হাতে থাকে না। আমি অসহায় বোধ করছি। কান্না হয়তো লজ্জার মনে হতে পারে। কিছু ঘটনার পিছনে রাজনীতি থাকে না। এই ঘটনায় কোনও ষড়যন্ত্র নেই - এটা শুধুই দুর্ঘটনা। মহারাষ্ট্র এবং আমাদের সকলকে এই যন্ত্রণা চিরদিন বইতে হবে। দয়া করে এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতি জুড়বেন না।”
প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ছিল Bombardier Learjet 45 মডেলের, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ‘VT-SSK’। এদিন সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বই থেকে ওড়ে জেটটি। বারামতীতে অবতরণের সময়ই ঘটে বিপত্তি। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে কিছুক্ষণের জন্য নজরদারি সিগন্যাল বন্ধ হয়ে যায়। পরে আবার সিগন্যাল ফিরে আসে এবং দেখা যায় বিমানটি লুপ নিচ্ছে। সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে বিমানটি পুরোপুরি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়, ঠিক তখনই দুর্ঘটনা ঘটে বলে অনুমান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, রানওয়ে থেকে প্রায় ১০০ ফুট দূরেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। বারামতী বিমানবন্দরের ম্যানেজার শিবাজি তাওয়াড়ে জানিয়েছেন, অবতরণের সময় রানওয়ের এক ধারে আছড়ে পড়ে জেটটি এবং সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার পরে জরুরি পরিষেবার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও আতঙ্কের মধ্যেই সাহায্যে এগিয়ে আসেন।
প্রথমে দেহগুলি শনাক্ত করা কঠিন ছিল। পরে হাতঘড়ি ও পোশাকের সূত্র ধরে অজিত পাওয়ারের দেহ শনাক্ত করা হয়। বিমানটিতে থাকা অন্যদের মধ্যেও ছিলেন দুই পাইলট - সুমিত কপূর ও সম্ভাবী পাঠক।