Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
TB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কা

বিধানসভায় শূন্য, তবু চিরাগের দলকে ২৯ আসনে বিজেপির অঙ্ক দেখছে নীতীশের দল

বিহারে লোক জনশক্তি পার্টির সভাপতি চিরাগ পাসোয়ানকে ২৯ আসনে লড়ানোর সিদ্ধান্তে জেটিএনএ-র ছোট শরিকদের মধ্যে চরম অখুশি।

বিধানসভায় শূন্য, তবু চিরাগের দলকে ২৯ আসনে বিজেপির অঙ্ক দেখছে নীতীশের দল

রাজনীতির কৌশল

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 24 October 2025 10:09

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দৃশ্যত কোনও বিভেদ নেই। পাঁচ বছর আগে বিহারে বিধানসভা ভোটে ক্ষমতাসীন এনডিএ-র শরিকি বিবাদ ছিল সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।‌ এবার সেই আলোচনা তীব্র হয়েছে বিরোধী জোট মহাগঠবন্ধনের আসন বাটোয়ারা নিয়ে। কয়েক দফা আলোচনার পরও বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই পুরোপুরি এড়াতে পারল না বিরোধী জোট। বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসক জোট তাই বিরোধীদের নিশানা করে বলছে, যারা দুটো আসন নিয়ে সমঝোতা করতে পারেন না তারা কি করে সরকার চালাবেন। ‌বিজেপি, নীতিশ কুমারের জেডিইউ-সহ এনডিএ-র সব শরিকের মুখেই এক কথা। ‌

তবে এটা বাইরের দৃশ্য। ভিতরে ভিতরে এনডিএ শরিকদের মধ্যে তুমুল বিবাদ চলছে একজনকে নিয়ে। তিনি চিরাগ পাসোয়ান। এবার আসন বাটোয়ারায় তিনি সবচেয়ে সবচেয়ে লাভবান, নিজের মুখেই বলছেন লোক জনশক্তি পার্টি‌ ( পাসোয়ান)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি চিরাগ। ‌২৯টি আসনে লড়াই করছে তাঁর দল। বিজেপি এবং জেডিইউ-র পর চিরাগের পার্টি তৃতীয় সর্বোচ্চ আসনে লড়াই করছে। ‌

পাঁচ বছর আগে ২০২০ বিধানসভা ভোটে ঠিক উল্টো কথাটি শোনা গিয়েছিল রামবিলাস পুত্রের মুখে। ন্যায্য আসন না পেয়ে বহু কেন্দ্রে এনডিএ-র বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছিলেন চিরাগ।

এবার ৪০টি আসন চেয়ে ২৯টি পেয়ে বেজায় খুশি লোজপা (রামবিলাস) পার্টির সুপ্রিমো। অন্যদিকে ততোধিক অখুশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জিতন রাম মাঝির হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা এবং উপেন্দ্র কুশওয়ার রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা। ২৪৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি এবং জেডিইউ লড়াই করছে ১০১টি করে আসনে। ফলে বাকি ৪১টি আসনের মধ্যে চিরাগের পার্টিকে ২৯টি আসন দেওয়ায় জিতন মাঝি এবং কুশওয়ার দলের ভাগ্যে জুটেছে নামমাত্র আসন। ‌

কিন্তু কৌতূহলের বিষয় হল, আসন ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে ছোট এই দুই দলের তুলনায় বেশি অখুশি নীতীশ কুমারের পার্টি জেডিইউ। ওই দলের নেতারা প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও একান্তে বলছেন বিধানসভায় চিরাগের দলের একজনও বিধায়ক নেই। তারপরও তাঁর দলকে ২৯ আসন দেওয়ার পিছনে বিজেপির বিশেষ অঙ্ক রয়েছে। জেডিইউ নেতারা আরও শঙ্কিত এই কারণে, চিরাগকে খুশি করতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ‌নির্বাচনী প্রচারে এজন্য বিজেপির দুই শীর্ষ নেতাকে বারে বারে কৃতজ্ঞতা ধন্যবাদ জানাচ্ছেন চিরাগ।‌ বলছেন, কুড়ি বছর আগে আমার প্রয়াত পিতা বিহার বিধানসভায় ২৯ বিধায়কের নেতা ছিলেন। এবার তাই ২৯ আসনে জয় হাসিল করাই আমার একমাত্র সংকল্প।

চিরাগের এই ঘোষণাতেই বিজেপির ভবিষ্যৎ অঙ্ক অনুমান করছে নীতীশের দল।‌
গতবার বহু আসনে জেডিও প্রার্থীদের পরাজয় নিশ্চিত করেছিল চিরাগের দলের নির্দল প্রার্থীরা। পরে জানা যায়, এর পিছনে ছিল বিজেপির কৌশল। ২০২০ এই ভোটে নীতীশের দলের আসন ৬০ থেকে কমে হয়েছিল ৪৫। তবে সেবারও নীতীশকেই মুখ্যমন্ত্রী রেখে সরকার গড়ে এনডিএ। ‌

বিহারের রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, এবারের নির্বাচনে এনডিএ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সির দখল নেবে বিজেপি। আর তাতে তাদের অন্যতম সহযোগী হবেন চিরাগ। ‌ নিজেকে 'নরেন্দ্র মোদীর চেলা' বলে পরিচয় দেওয়া চিরাগ ইতিমধ্যেই বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের কুমারের নেতৃত্বে এনডিএ ২০২৫ এর বিধানসভা ভোটে লড়াই করছে। তবে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীকে হবেন তা ঠিক হবে নির্বাচনের পর বিধায়কদের মতামতের ভিত্তিতে। একটি হিন্দি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চিরাগকে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশের শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবের অভিযোগ নীতীশ শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ নন। তার হাতে নিরাপদ নয় বিহার।

আশ্চর্যের হল চিরাগ পাসোয়ান এই প্রসঙ্গে বলেছেন, বিহারে এমন একজনকে মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে যিনি আগামী পাঁচ বছর রাজ্যকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন। রামবিলাস পুত্রের বক্তব্য, আমি বলিউড ছেড়ে রাজনীতিতে এসেছি শুধুমাত্র রাজ্যের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্নকে পাথেয় করে। বিহারের উন্নতির জন্য সে কারণেই একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে মুখ্যমন্ত্রী করা দরকার। আমি নীতীশ কুমারকে বাতিলের খাতায় রাখছি না। তবে আগামী সরকারের নেতৃত্ব কে দেবেন তা ঠিক করবেন বিধায়কেরা।

রাজনৈতিক মহলের মতে, চিরাগ আসলে বিজেপির কথা বলছেন। এই শরিক নেতাকে সামনে রেখে বিজেপি পরবর্তী সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পদ দখল করতে বদ্ধপরিকর। ‌ সেই কারণেই গতবারের মতো এবারও নীতীশের পার্টির বিরুদ্ধে চিরাগকে লড়িয়ে দিতে আগাম প্রস্তুতি সেরে রেখেছে পদ্ম শিবির।


```