
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 22 January 2025 17:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার আচমকা সিঁদুরে মেঘ ছড়িয়ে দিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যে মণিপুরের রাজ্য সভাপতিকে সরিয়ে দিল সংযুক্ত জনতা দল (জেডিইউ)। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই সমর্থন তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করে দেওয়ায় মণিপুর জেডিইউয়ের সভাপতিকে অপসারণ করা হয়। জেডিইউয়ের সর্বভারতীয় মুখপাত্র রাজীবরঞ্জন প্রসাদ জানান, মণিপুরে শরিকী সম্পর্কচ্ছেদের যে সংবাদ বেরিয়েছে তা বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন।
জেডিইউয়ের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে, মণিপুর সভাপতি ক্ষেত্রীমায়ুম বীরেন সিং নিজের ইচ্ছেয় সমর্থন প্রত্যাহারের চিঠি লিখেছেন। দলের কোনও মত নেই এ বিষয়ে। এই ঘটনার পর তাঁকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, মণিপুর এবং কেন্দ্রে যেরকমভাবে বিজেপি-জেডিইউ জোট বজায় ছিল, তা অটুট থাকছে।
উল্লেখ্য, এদিনই এর আগে উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি রাজ্য মণিপুরের বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং নেতৃত্বাধীন সরকারের উপর থেকে সমর্থন তুলে নেয় নীতীশ কুমারের দল। জানিয়ে দেওয়া হয়, মণিপুর বিধানসভায় জেডিইউয়ের একজন সদস্য এবার থেকে বিরোধী বেঞ্চে বসবেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এক চিঠিতে জেডিইউয়ের মণিপুর সভাপতি ক্ষেত্রীমায়ুম বীরেন সিং জানান, মণিপুর রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার থেকে আমরা সমর্থন প্রত্যাহার করছি।
মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংকে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, জেডিইউয়ের একমাত্র বিধায়ক মহম্মদ আবদুল নাসির এখন থেকে বিরোধী সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। বিবৃতিতে দল বলেছে, ২০২২ সালে ইন্ডিয়া জোট গঠনের অংশীদার হিসেবে জেডিইউ বিজেপি নেতৃত্বাধীন মণিপুর সরকারের উপর থেকে সমর্থন তুলে নেয়। সেকথা জানানো হয়েছিল, রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী এবং বিধানসভার স্পিকারকেও। তারপর থেকে জেডিইউ বিধায়কদের বিরোধী বেঞ্চেই বসতে দেওয়া হয়।
রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে জেডিইউ মোট ৬টি আসনে জেতে। কিন্তু, কিছুদিনের মধ্যে তাদের পাঁচ বিধায়ক বিজেপিতে ভিড়ে যান। শুধু পড়ে ছিলেন আবদুল নাসির। তাঁকেও শেষ বিধানসভার অধিবেশন পর্যন্ত বিরোধী বেঞ্চেই বসতে দেওয়া হয়েছে। ওই দলত্যাগী পাঁচ বিধায়কের বিরুদ্ধে সংবিধানের দশম তফসিলে বরখাস্ত করার দাবি জানানো হয়েছিল। যা এখনও স্পিকারের কোর্টে পড়ে রয়েছে, অভিযোগ দল থেকে অপসারিত নেতার।
যদিও সংখ্যাতত্ত্বের হিসাবে জনতা দল ইউনাইটেড সমর্থন তুলে নিলেও বীরেন সিং সরকারের পতনের সম্ভাবনা নেই। ৬০ সদস্যবিশিষ্ট বিধানসভায় বিজেপির সদস্য সংখ্যা ৩৭। এবং তার সঙ্গে রয়েছে পাঁচ নাগা পিপলস ফ্রন্ট এবং ৩ নির্দল বিধায়কের সমর্থন। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা দলের সর্বোচ্চ কর্তা নীতীশ কুমারকে খুশি করার মতো অস্ত্র কেন্দ্রের হাতে রয়েছে। আর তা হল আসন্ন কেন্দ্রীয় বাজেট। তাই তার আগে কোনওমতেই মোদীকে চটাতে চান না নীতীশ।