
শেষ আপডেট: 11 November 2023 11:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে পাটনার গ্লোবাল বিজনেস সামিটের আয়োজন করছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। রাজ্য সরকারের অফিসারেরা এখন রাজ্যে রাজ্যে ছুটছেন বিনিয়োগকারীদের মন পেতে। আমেরিকা, ব্রিটেন, চিন, তাইওয়ান, অষ্ট্রেলিয়া, জাপান তো আছেই, নীতীশ সরকারের আমন্ত্রিতের তালিকায় আছেন বাংলাদেশের বণিক ও শিল্পপতিরাও।
নীতীশের এই আয়োজন ঘিরে প্রশাসনিক মহলে যেমন চূড়ান্ত ব্যস্ততা চলছে তেমনই শিল্প সম্মেলনের ঘোষণা ঘিরে বিহারের রাজনৈতিক মহল সররগম। দু’দিন আগে মুজফ্ফরপুরের সভায় কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিহারের জঙ্গলরাজ কায়েম হয়েছে বলে নীতীশের নাম করে তোপ দাগেন। পরক্ষণেই উপমুখ্যমন্ত্রী তথা আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব জবাব দেন বিহারে আসলে মঙ্গলরাজ প্রতিষ্ঠা হয়েছে নীতীশজি বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করার পর। দু’দিন পরেই অমিতজি মঙ্গলরাজের নমুনা দেখতে পারবেন।
অমিতের সভার দিন বিকালের বিমানেই দিল্লি ছোটেন বিহারের শিল্পমন্ত্রী সমীর মহাশেঠ। দিল্লিতে বণিকসভা, শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে পরদিন লম্ভা বৈঠক করে জানান নীতীশ কুমার ঠিক কী চাইছেন। বিহার সরকার সূত্রের খবর, আগামী এক মাসে নীতীশ কলকাতা, মুম্বই, জয়পুর, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, হায়দরাবাদে যাবেন। যাবেন বিদেশেও। সেখানে শিল্পমহলের সামনে তুলে ধরবেন রাজ্যের শিল্প বান্ধব ছবি।
নীতীশের এই উদ্যোগ মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০১২-’১৩ সালে গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তৎপরতা। ভাইব্র্যান্ট গুজরাতের বার্তা নিয়ে রাজ্যে রাজ্যে গিয়ে মোদী রাজ্যেরপ শিল্প পরিকাঠামো-সহ নানা ধরনের সুবিধাদির বিপণন করেন। নিজেকে তুলে ধরেন বিকাশ পুরুষ হিসাবে।
বিহার সরকার এবং নীতীশের দল জেডিইউ সূত্রে খবর, ইন্ডিয়া জোট কোনও নেতাকে প্রধানমন্ত্রী মুখ হিসাবে তুলে ধরবে না, এটা এখন স্পষ্ট। কিন্তু ভোটের পর বিরোধীদের সরকার গড়ার সুযোগ এলে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা এগিয়ে থাকবেন যাঁর দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই মাপকাঠিতে বিরোধী শিবিরে নীতীশের ধারেকাছে কেউ নেই।
নীতীশের দল বিগত দিনগুলিতে বিহারে শিল্পে বিনিয়োগে অঙ্গ, কর্মসংস্থানের হিসাবে তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীকে বিকাশ পুরুষ হিসাবে তুলে ধরছে। এমনীতেই ইন্ডিয়া জোট গড়ার সময় থেকে পাটনা-সহ বড় শহরগুলিতে ‘দেশ কা নেতা ক্যায়সা হো, নীতীশ কুমার য্যায়সা হো’ স্লোগান লেখা পোস্টার, ব্যানার জ্বল জ্বল করছে।