
ঝাঁসির মহারানি লক্ষ্মীবাঈ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল
শেষ আপডেট: 17 November 2024 12:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝাঁসির মহারানি লক্ষ্মীবাঈ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আগুন লাগার ঘটনায় এবার উত্তর প্রদেশ সরকারের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ঝাঁসির মহারানি লক্ষ্মীবাঈ মেডিক্যাল কলেজের এনআইসিইউ (নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট)-তে আচমকাই আগুন লেগে যায়। আগুনে ঝলসে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়। আহত হয় অনেকেই। সূত্রের খবর সে সময় হাসপাতালের ভেতরে ৪৭ জন শিশু ছিল। দমকল এসে পৌঁছনোর আগেই এনআইসিইউ এর কাচ ভেঙে বেশ কয়েকজন শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসক ও নার্সরা। পরে ঘটনাস্থলে দমকলের ৬টি ইঞ্জিন পৌঁছে দ্রুত ৪৫ শিশুকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে ১৬ শিশুর অবস্থা সঙ্কটজনক বলে খবর।
জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে চিঠি পাঠিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। আগুন লাগার ঘটনায় ইতিমধ্যে হাসপাতালের বিরুদ্ধেই গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। পরিকাঠামো থেকে শুরু করে হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিয়েও উঠেছে বিস্তর প্রশ্ন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শনিবার এক বিবৃতি জারি করে মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। সরকারি হাসপাতালের পর্যবেক্ষণে থাকলেও কীভাবে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হল না সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বলে দাবি করা হলেও সেই তত্ত্ব মানতে নারাজ কমিশন। সে কারণেই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট তলব করেছে তারা। শুধু তাই নয়, যে ১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যারা গুরুতর জখম হয়েছে তাদের পরিবার যাতে সঠিক বিচার পান, সে বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে কমিশনের বিবৃতিতে।
তবে কীভাবে আগুন লাগল, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্তে বিশেষ কমিটি গড়েছে উত্তরপ্রদেশের সরকার। ঘটনায় মৃতর পরিবারদের সমবেদনা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রাতেই ঘটনাস্থলে যান রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।