
নবজন্ম পাওয়া সেই সদ্যোজাত।
শেষ আপডেট: 1 November 2024 23:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'রাখে হরি মারে কে', অর্থাৎ স্বয়ং হরি যাকে রক্ষা করছেন, তাঁকে মারার সাধ্য কারও নেই। প্রবাদটি অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল এবারও।
চলতি বছরের জন্মাষ্টমীর দিন উত্তরপ্রদেশের হামিদপুরে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল এক সদ্যোজাতকে। অভিযোগ, স্থানীয় একটি ব্রিজ থেকে ছুড়ে ফেলা হয়েছিল সাত দিনের ওই শিশু পুত্রকে। কিন্তু, সেখানে একটি বিরাট গাছের ডালে সে আটকে যায়। নানা ঘাত প্রতিঘাত সামলে, মায়ের স্নেহে লালনপালন করে শিশুটিকে নবজন্ম দিলেন কানপুরের লালা লাজপত রাই হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
ঠিক কী ঘটেছিল?
চলতি বছরের ২৬ অগস্ট নবজাতককে হামিদপুরের একটি সেতু থেকে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু শিশুটি নীচে না পড়ে একটি গাছের ডালে ঝুলছিল বলে খবর। এরপর বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসতেই তাঁরা স্থানীয় হামিরপুর জেলা হাসপাতালে তাকে ভর্তি করায়। কিন্তু বাচ্চাটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতেই তাকে কানপুরের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, শিশুটিকে যখন উদ্ধার করা হয়, তখন তার শরীরে কমপক্ষে ৫০টি গভীর ক্ষত ছিল। পিঠে ছিল পশুর কামড়ের দাগও। শিশুটির হাল দেখে রীতিমতো চোখ কপালে ওঠে চিকিৎসকদের। তবুও হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সরা পরম স্নেহে তাকে যত্ন দিয়ে সারিয়ে তুলে নয়া দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।
আদৌ তাকে বাঁচানো যাবে কিনা তা নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন না চিকিৎসকরা। তবুও হাল ছাড়েননি তাঁরা। টানা দু'মাস পর ফল মিলল হাতেনাতে। টানা চিকিৎসা ও অদম্য প্রচেষ্টায় অবশেষে সুস্থ হয়ে ওঠে হাসপাতালের ছোট্ট সদস্য।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তাকে পরীক্ষা করে বুঝতে পারি, গাছে ঝুলন্ত অবস্থাতে পাখিরা তাকে ঠোকর মেরেছিল। পাশাপাশি পশুর কামড়ও সহ্য করতে হয় তাকে। স্বাভাবিকভাবেই ব্যথায় কিছুদিন সংজ্ঞাহীন থাকার পর যখন একটু জ্ঞান আসে সদ্যোজাতর আর্তনাদ শুনে তাঁদের চোখেও জল চলে আসে।
শরীরে একাধিক ক্ষত থাকার কারণে তাকে কোলে তুলে আদর করার মতো কোনও সুযোগ ছিল না। কান্নাকাটি করলেও পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে পড়ে যে শিশুটির কষ্ট চোখে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। কিন্তু টানা দু'মাস চিকিৎসা করে শিশুটিকে সুস্থ করে তোলেন তাঁরা। নাম, পরিচয় না জানা আদরের শিশুটির নামকরণ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জন্মাষ্টমীর দিন উদ্ধার হওয়ায় তার নাম রাখা হয় কৃষ্ণ।
যদিও শেষমেশ গত ২৪ অক্টোবর শিশুটিকে পুরোপুরি সুস্থ করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও শিশু কল্যাণ কমিটির হাতে তুলে দেন চিকিৎসকরা।