হাসপাতালের ডিন রাজেশ কাছরে জানিয়েছেন, শিশুটি অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় জন্মায়। তাঁর কোনও শ্বাসপ্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন বা সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। মেডিক্যাল সায়েন্স অনুযায়ী জীবনের কোনও চিহ্ন ছিল না বলেই মৃত ঘোষণা করা হয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 11 July 2025 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছিল নবজাতককে। পরিবারের লোকজন শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই ঘটে গেল অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। কবর দেওয়ার ঠিক আগে হঠাৎ কেঁদে উঠল সদ্যোজাত! মহারাষ্ট্রের বীড জেলার আম্বাজোগাইয়ের একটি সরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ (Newborn declared dead by a government hospital)।
গত ৭ জুলাই স্বামী রামানন্দ তীর্থ সরকারি হাসপাতালে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ২৭ সপ্তাহে জটিল প্রসব হয়। চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির ওজন মাত্র ৯০০ গ্রাম ছিল এবং জন্মের সময়ে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। চিকিৎসার পরও সদ্যোজাত কোনও সাড়া না দেওয়ায় তাকে রাত ৮টার পর মৃত ঘোষণা করা হয়।
পরিবারের লোকজন রাতেই শিশুর মৃতদেহ নিয়ে গ্রামে ফিরে যান। পরদিন সকালে কবরে পুঁতে দেওয়ার আগে শেষবারের মতো শিশুর মুখ দেখতে চান তাঁর ঠাকুমা। সেইমতো কাপড় সরাতেই হঠাৎ কেঁদে ওঠে নবজাতক (Newborn Baby)। আতঙ্ক ও আনন্দে চমকে ওঠে পরিবার। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা আবার ছুটে যান হাসপাতালে। তখন সকাল ৭টা, অর্থাৎ মৃত ঘোষণার প্রায় ১২ ঘণ্টা পরে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেল শিশুটিকে।
হাসপাতালের ডিন রাজেশ কাছরে জানিয়েছেন, শিশুটি অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় জন্মায়। তাঁর কোনও শ্বাসপ্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন বা সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। মেডিক্যাল সায়েন্স অনুযায়ী জীবনের কোনও চিহ্ন ছিল না বলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে এবার শিশুটিকে ফের ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু হয়েছে। ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সদ্যোজাত শিশুর (Newborn Baby) দাদু সখারাম ঘুঘে বলেন, 'হাসপাতাল থেকে ফোনে জানানো হয়, বাচ্চাটি মৃত। আমরা দেহ নিয়ে আসি। সকালে কবরে দেওয়ার আগে আমার স্ত্রী ওর মুখ দেখতে চায়। তখনই দেখি বাচ্চা বেঁচে আছে। এটা সম্পূর্ণ হাসপাতালের অবহেলা। এভাবে কত জীবন্ত মানুষকে মৃত বলে দেওয়া হচ্ছে কে জানে!'
শিশুটির মা বলিকা ঘুঘে জানান, 'নার্স আমাদের বলেছিল আমার সন্তান আর বেঁচে নেই। কিন্তু যখন কবর দিতে যাচ্ছিলাম, তখনই ও কেঁদে ওঠে।'
আপাতত শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পরিবার এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ না দিলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।