
থাপা পরিবার
শেষ আপডেট: 26 March 2024 19:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোট নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে, তখন অসমের একটি পরিবারও খবরের শিরোনামে চলে এসেছে। না, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী বা এদল থেকে ওদল করা পরিবার নয়। এই পরিবারটি হল একেবারে সাধারণ ভোটার। পরিবারের মোট ১২০০ সদস্য লোকসভার প্রার্থী বাছাই করবেন। সোনিতপুর জেলার ছোট্ট একটি গ্রাম, তার নাম নেপালি পাম ভিলেজ। এই গ্রামেই বসবাস পরিবারের। বলা যায়, আস্ত একটা গ্রামের সকলেই প্রত্যেকের আত্মীয়, রণ বাহাদুর থাপার উত্তরসূরি। মোট ৩০০টি পরিবারের লোকসংখ্যা ২৫০০, যার মধ্যে ১২০০ জন হলেন ভোটার।
সোনিতপুরের নদী লাগোয়া এই গ্রামটি। বিংশ শতকের মাঝামাঝি রণ বাহাদুর থাপা এখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন। দক্ষ কৃষক থাপার স্ত্রী পাঁচজন, ছেলে ১২ এবং কন্যা ১০ জন। ১৯৯৭ সালে থাপার মৃত্যু হয়। তেজপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই গ্রামের আসল নাম ফুলাগুড়ি হলেও এই বিস্তৃত শাখাপ্রশাখার কারণে স্থানীয়রা একে নেপালি পাম গ্রাম নামেই ডাকেন।
রণ বাহাদুরের ছোট ছেলে তথা গ্রামের মুখিয়া তিল বাহাদুর থাপা বলেন, আমাদের বাবা পাঁচবার বিয়ে করেছেন। আমরা ২২ ভাইবোন। আমাদের সকলেরই বাচ্চাকাচ্চা আছে। তাই এক ছাদের তলায় বাস করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে আমরা আলাদা আলাদা করে থাকতে শুরু করি। এখন নাতি-নাতনি মিলিয়ে মোট ৩০০ পরিবার এখানে আছে। এই গ্রামে আমরা ছাড়া আর কেউ থাকে না। আমাদের ৬৫ জন নাতি এবং ৭০ জন নাতনি আছে। তবে এখনকার প্রজন্মের অনেকে কৃষিকাজ ছেড়ে চাকরি ধরেছে, বলেন তিল বাহাদুর। রণ বাহাদুর মেয়েদের বিয়ে দিলেও গ্রামে বাড়ি করে দেন। যাতে কেউ পরিবার বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়েন।
এখন হয়তো অনেকেই জানেন, বিশ্বের বৃহত্তম পরিবারের কাহিনি। যাঁরা মিজোরামের বাসিন্দা। প্রয়াত জিয়োনা চানার এই পরিবারে ছিলেন ৩৮ জন স্ত্রী, ৮৯ জন ছেলেমেয়ে, ৩৬ জন নাতি-নাতনি। চানার পরিবারের ১৯৯ জন একই ছাদের তলায় এখনও বসবাস করেন। ২০১৭ সালে ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যু হয় চানার। তাঁর সঙ্গে থাপার পরিবারের তফাত একটাই যে, নেপালি পাম গ্রামে একই পরিবারের হয়েও অনেকেই আলাদা থাকেন। প্রায় ৩০০ সংসারে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে থাপার পরিবার। কিন্তু মিজোরামের চানা পরিবার এখন বটগাছের ঝুরির মতো একই কাণ্ডে লেপ্টে আছে।