শুধু নেপাল নয়, এই অশান্ত পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিহারের রাক্সৌল সীমান্ত এলাকাতেও।

শেষ আপডেট: 6 January 2026 14:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সীমান্তবর্তী দেশ নেপালের একাধিক এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা (Nepal unrest Communal tension) ছড়িয়ে পড়েছে। এই খবর সামনে আসায় পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হল ভারত-নেপাল সীমান্ত (India Nepal border sealed)। তবে শুধু নেপাল নয়, এই অশান্ত পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিহারের রাক্সৌল সীমান্ত এলাকাতেও।
জানা গিয়েছে, নেপালের পার্সা জেলার বীরগঞ্জ শহরকে কেন্দ্র করে এই অশান্তির সূত্রপাত (Birgunj violence)। নেপাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীরগঞ্জ শহরে কার্ফু জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
কীভাবে শুরু হল অশান্তি?
নেপাল পুলিশের দাবি, ধানুষা জেলার কমলা মিউনিসিপ্যালিটির সাখুয়া মারান এলাকায় একটি মসজিদে ভাঙচুর (Mosque vandalised) চালায় একদল দুষ্কৃতী। সেই ঘটনার ভিডিও দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
এর পরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পুলিশের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই মুসলিম যুবকের অ্যাকাউন্ট থেকে হিন্দু-বিরোধী মন্তব্য ও ধর্মীয়ভাবে উস্কানিমূলক কনটেন্ট ছড়ানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রতিবাদেই রবিবার সকালে পার্সা জেলার বীরগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়।
বিক্ষোভ থেকে দ্রুত ছড়ায় হিংসা
ধানুষা জেলার ঘটনায় বীরগঞ্জে প্রতিবাদে নামেন বিক্ষোভকারীরা। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
বিক্ষোভ চলাকালীন হিন্দু সংগঠনগুলির অভিযোগ, তাঁদের দেবদেবীদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে। এরপরই পরিস্থিতি হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের উপর ইট-পাথর ছোড়ে এবং স্থানীয় একটি পুলিশ স্টেশনে ভাঙচুর চালানো হয়।
নেপাল পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে প্রায় ছয় রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে হয়।
অশান্ত পরিস্থিতির জেরে বীরগঞ্জ শহরে কার্ফু জারি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী সবসময় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।
ভারত-নেপাল সীমান্ত আপাতত পুরোপুরি সিল
বীরগঞ্জ ও সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ভারত-নেপাল সীমান্তে নিরাপত্তা আরও কড়া করা হয়েছে। সীমান্তের দায়িত্বে থাকা শশস্ত্র সীমা বল (SSB) পুরো সীমান্ত সিল করে দিয়েছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সাধারণ নাগরিকদের সমস্ত সীমান্ত যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে ভারত-নেপাল সংযোগকারী মৈত্রী ব্রিজেও। সীমান্ত পার হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির কড়া তল্লাশি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে সেখানে ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন করা হয়েছে।
SSB ও অন্যান্য নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু মৈত্রী ব্রিজ নয় - সাহাদেওয়া, মহাদেওয়া, পানটোকা, সিওয়ান টোলা ও মুশারওয়া-সহ একাধিক সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
নেপাল ছাড়ছেন ভারতীয় শ্রমিকরা
বীরগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় নেপালে কর্মরত বহু ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিক দেশে ফিরতে শুরু করেছেন।
সীমান্তে দাঁড়িয়ে NDTV-কে রাকেশ নামে এক ভারতীয় শ্রমিক জানান, বীরগঞ্জ শহরের সব দোকানপাট ও বাজার সম্পূর্ণ বন্ধ। “এই পরিস্থিতিতে সেখানে থাকার কোনও মানে নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার কাজে ফিরব,” বলেন তিনি।