মোদীর অভিযোগ, নেহরু দু’বার দেশকে বিভক্ত করেছিলেন— প্রথমবার র্যাডক্লিফ লাইনে, আর পরে এই জলচুক্তির মাধ্যমে।

নেহরু ও মোদী
শেষ আপডেট: 19 August 2025 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিন্ধু জলচুক্তি (Sindhu Waters Treaty) নিয়ে ফের সরব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। মঙ্গলবার এনডিএ সাংসদীয় বৈঠকে মোদী বলেন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুই (Jawaharlal Nehru) স্বীকার করেছিলেন যে পাকিস্তানের সঙ্গে করা ওই জলচুক্তি ভারতের কোনও উপকারে আসেনি।
মোদীর অভিযোগ, নেহরু দু’বার দেশকে বিভক্ত করেছিলেন— প্রথমবার র্যাডক্লিফ লাইনে, আর পরে এই জলচুক্তির মাধ্যমে। তাঁর কথায়, ‘‘সিন্ধু চুক্তিতে ৮০ শতাংশ জল পাকিস্তানকে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এটা ছিল কৃষকবিরোধী সিদ্ধান্ত। পরে নিজের সচিবের মাধ্যমে নেহরু স্বীকারও করেছিলেন যে চুক্তির থেকে ভারতের কোনও লাভ হয়নি।’’
বৈঠকে উপস্থিত বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল বলেন, ‘‘দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছিল। নেহরু যদি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হতেন, তবে সংসদের অনুমোদন নেওয়া উচিত ছিল। তিনি কোনও মন্ত্রিসভা বা সংসদের আস্থা ছাড়াই পাকিস্তানে গিয়ে একা গোপনে চুক্তি সেরে এসেছিলেন। এটা আমাদের কৃষকদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া কিছু নয়।’’
বিজেপি সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদ মোদীর বক্তব্যকে সমর্থন করে অভিযোগ করেন, নেহরু শুধু চুক্তিই করেননি, পাকিস্তানকে ৮০ কোটি টাকা পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘সংসদে আলোচনা ছাড়া কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তি হয় না। নেহেরুজি তা না করেই চুক্তি সেরেছিলেন।’’
১৯৬০ সালে নয় বছরের আলোচনার পর ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সিন্ধু জলচুক্তি হয়, যেখানে বিশ্বব্যাঙ্কও স্বাক্ষরকারী ছিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী, পশ্চিমের তিন নদী— সিন্ধু, ঝিলম ও চন্দ্রভাগা পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ হয়, আর ভারতের জন্য আসে ইরাবতী, বিপাশা ও শতদ্রু।
সম্প্রতি হেগের আন্তর্জাতিক আদালতের এক রায় ভারত সরাসরি খারিজ করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ওই আদালতের ‘‘কোনও এক্তিয়ার নেই, বৈধতাও নেই। তাই এই রায় ভারতের জল ব্যবহারের অধিকারে কোনও প্রভাব ফেলবে না।’’
এ ছাড়া, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পাহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। তার পরই ভারত আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সিন্ধু চুক্তিকে আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। সরকার জানায়, পাকিস্তান যখন পর্যন্ত বিশ্বাসযোগ্যভাবে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করা ছাড়বে না, তত দিন পর্যন্ত ওই চুক্তি কার্যকর থাকবে না।
অন্যদিকে, এ দিনের বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী এনডিএ-র উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণণকে সাংসদদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। মোদীর কথায়, ‘‘তিনি ওবিসি সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা এক ঘরোয়া নেতা। রাজনীতিতে কোনও খেলা খেলেন না, সাদাসিধে স্বভাবের মানুষ।’’