যখন দেখেন মেয়ে সংযুক্তার চোখেও তাঁর মতোই ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছে, সময়ের নিয়মে চাপা পড়ে যাওয়া নিজের স্বপ্ন আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

শেষ আপডেট: 2 August 2025 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরনো স্বপ্নের পিছনে ছুটে যাওয়া আর জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার এক দুর্দান্ত উদাহরণের সাক্ষী থাকল তামিলনাড়ু। ৪৯ বছর বয়সে এসে, ‘বয়স তো শুধু একটা সংখ্যামাত্র’ - এই প্রবাদকে জীবন্ত করে তুললেন এক কিশোরী মেয়ের মা, অমুৎথাভল্লী মনিভান্নান। মেয়ে সংযুক্তার সঙ্গে, একসঙ্গে নিট (NEET) পাস করলেন তিনি।
তিন দশক আগে তাঁর স্বপ্ন ছিল ডাক্তারি (MBBS) পড়ার। কিন্তু পারিবারিক ও সামাজিক নানা কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বাধ্য হয়ে মেডিক্যাল পেশার কাছাকাছি জুড়ে থাকার আশায় ফিজিয়োথেরাপিস্টের পেশা বেছে নেন অমুৎথাভল্লী।
এদিকে এমন এক সময় আসে যখন দেখেন মেয়ে সংযুক্তার চোখেও তাঁর মতোই ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন। মন দিয়ে সে নিট (NEET)-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সময়ের নিয়মে চাপা পড়ে যাওয়া সেই স্বপ্ন আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
‘মেয়েকে দেখে আমার পুরনো স্বপ্নটা আবার মাথা চাড়া দেয়। ও-ই আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা,’ বলতে বলতে মুখে হাসি ফুটে ওঠে অমুৎথাভল্লীর।
সংযুক্তা সিবিএসই (CBSE) বোর্ডের ছাত্রী। নিটের জন্য কোচিংয়ে ভর্তি হয়েছিল সে। তার বইগুলোই হয়ে ওঠে মায়ের পাঠ্যসঙ্গী। এ বছর নিটে সংযুক্তার নম্বর ৪৫০। সে চান্স পেতে পারে সাধারণ বা SC কোটায়, এবং তার ইচ্ছে নিজের রাজ্যের বাইরে অন্য কোথাও পড়বে।
অন্যদিকে, অমুৎথাভল্লী পেয়েছেন ১৪৭ নম্বর। PwBD (Persons with Benchmark Disabilities) কোটায় ভিরুধুনগর গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে তাঁর ভর্তি নিশ্চিত হয়েছে। ৩০ জুলাই তিনি বিশেষ ক্যাটেগরির কাউন্সেলিং-এ অংশ নেন, যেখানে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের সন্তান, শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তি এবং সরকারি স্কুলের পড়ুয়ারা থাকেন।
তাঁর কথায়, ‘আমার সময়ে সিলেবাস একরকম ছিল। এখন অনেক কিছুই আলাদা। কিন্তু মেয়ের সাহায্য পেয়েছি বলে পারলাম।’
শুধু মেয়ে নয়, পাশে পেয়েছেন স্বামীকেও। তাঁর কথায়, ‘আমার স্বামী আমাদের দু’জনকেই খুব উৎসাহ দিয়েছে। পাশে ছিল সবসময়।’ জীবনসঙ্গীর সাহায্য ছাড়া এই যাত্রা কোনওভাবেই পূর্ণতা পেত না, অকপট স্বীকারোক্তি অমুৎথাভল্লীর।