
শেষ আপডেট: 28 November 2023 18:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘড়ির কাঁটায় সন্ধে ৬টা। টিকটিক করে এগোচ্ছে সময়। উদ্ধারকারী দলও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ৪১ জন শ্রমিককে 'অন্ধকূপ' থেকে বের করে আনার। সেইজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। টানেলের বাইরেই তৈরি অস্থায়ী হাসপাতাল। আছেন চিকিৎসকরা, সার দিয়ে দাঁড়িয়ে অ্যাম্বুলেন্স। এমনকী হেলিকপ্টারের ব্যবস্থাও আছে।
চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে আটকে থাকা কর্মীদের উদ্ধারকাজ। র্যাট হোল মাইনিং পদ্ধতিতে ধ্বংসস্তূপ কাটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে তার মধ্যে দিয়ে পাইপ ঢোকানোর কাজ। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, সন্ধে ৬টা পর্যন্ত যা খবর তাতে আরও দু'মিটার পাইপ বসানো বাকি আছে।
ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি বা এনডিএমএ-র অধিকর্তা সৈয়দ আটা হাসনায়েন সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, 'আমরা এখন সাফল্যের দোড়গোড়ায় দাঁড়িয়ে। আমি আশাবাদী খুব দ্রুতই শ্রমিকদের সুস্থ অবস্থায় বের করে আনতে আমরা সফল হব।'
কীভাবে শ্রমিকদের বের করে আনা হবে টানেলের মধ্যে দিয়ে?
এনডিএমএ-র অধিকর্তার কথায়, ওই পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ হলেই ওর মধ্যে দিয়ে ৪ সদস্যের তিনটি দল পৌঁছবে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে। সঙ্গে থাকবে অক্সিজেন মাস্ক এবং স্টেচার। তারপর একে একে স্ট্রেচারে করে শ্রমিকদের বের করে আনা হবে বাইরে।
চিনুক হেলিকপ্টার সুড়ঙ্গের নিকটবর্তী হেলিপ্যাডে রাখা হয়েছে। সেই হেলিকপ্টারে করেই শ্রমিকদের নিয়ে আসার কথা। তবে বিকেল সাড়ে ৪টের পর সেই হেলিকপ্টার উড়বে না। তাই রাতে শ্রমিকদের অস্থায়ী হাসপাতালে রাখা হবে। সেখানেই চিকিৎসা চলবে তাঁদের।
তারপরও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, মঙ্গলবার রাতের মধ্যে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হবে তো? নতুন করে কোনও বিপদ হবে না তো? সবকিছুর কথা মাথায় রেখেই প্ল্যান ‘বি’ তৈরি আছে উদ্ধারকারী দলের। মার্কিন যন্ত্র অগার মেশিন যখন অকেজো হয়ে যায়, তখন দু'টি বিকল্প পদ্ধতির কথা ভাবা হয়েছিল।
এক, মেশিনের সাহায্যে উলম্বভাবে সুড়ঙ্গ খোঁড়া আর দুই, অবশিষ্ট ধ্বংসস্তূপের অংশ শাবল, কোদাল, গাঁইতি দিয়ে খুঁড়ে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনো। একসঙ্গেই দু'টি পদ্ধতিতে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। র্যাট হোল মাইনিং পদ্ধতিতে ম্যানুয়াল ড্রিলিং করেই ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ সফল হয়েছে। তবে উলম্বভাবে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ মাঝপথে থামিয়ে রাখা হয়েছে। ৪৫ মিটার পর্যন্ত উলম্ব খনন করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দলের কথায়, যদি শেষ মুহুর্তে কোনও বিপদ ঘটে তবে প্ল্যান ‘বি’ হিসেবে ফের উলম্বভাবে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ শুরু করা হবে।