প্রাক্তন ক্রিকেটার নভজ্যোৎ সিং সিধুর স্ত্রী কংগ্রেস নেত্রী নভজ্যোৎ কৌর সিধুর মন্তব্যে প্রবল শীতেও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনীতি।

সিধু-পত্নী নভজ্যোৎ কৌর পাঞ্জাবের কংগ্রেস নেত্রী।
শেষ আপডেট: 8 December 2025 11:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হতে লাগে ‘৫০০ কোটি টাকা ভর্তি সুটকেস’। প্রাক্তন ক্রিকেটার নভজ্যোৎ সিং সিধুর স্ত্রী কংগ্রেস নেত্রী নভজ্যোৎ কৌর সিধুর এই মন্তব্যে প্রবল শীতেও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনীতি। সিধু-পত্নীর এই মন্তব্য রাজনীতিতে দুর্নীতিপরায়ণতার দিকে সরাসরি আঙুল তোলায় বিতর্ক ঘনিয়ে উঠেছে। সিধু-পত্নী নভজ্যোৎ কৌর পাঞ্জাবের কংগ্রেস নেত্রী। রাজ্যপাল গুলাবচাঁদ কাটারিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি দাবি করেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসতে গেলে ৫০০ কোটি টাকার সুটকেস থাকা প্রয়োজন। এরপরেই পাঞ্জাবের শাসকদল আম আদমি পার্টি ও বিরোধী বিজেপি তেড়েফুঁড়ে কংগ্রেস বিরোধী আক্রমণ শুরু করেছে। এমনকী দলীয় নেত্রীর এহেন মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়েছে কংগ্রেসও।
নভজ্যোৎ কৌর জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী প্রাক্তন ক্রিকেটার নভজ্যোৎ সিং সিধু সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারেন, যদি তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালে পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন আছে। কিন্তু, সিধুর ধর্মপত্নীর সে ব্যাপারে প্রবল সংশয় আছে। তাঁর দাবি, রাজ্য কংগ্রেসে প্রবল অন্তর্বিরোধ চলছে। এবং বেশ কয়েকজন বড় মাপের নেতা ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মুখ হওয়ার চেষ্টা তদ্বির শুরু করেছেন।
কৌর বলেন, আমরা সবসময় পাঞ্জাব এবং পাঞ্জাবিয়তের পক্ষে সরব হয়েছি। কিন্তু, আমাদের তো ৫০০ কোটি টাকা নেই! যা দিয়ে আমরা মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে পারব। তিনি আরও বলেন, সিধু সবসময় পাঞ্জাবের হয়ে কথা বলেন। কিন্তু, তাঁদের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারবেন না, যাঁরা এত টাকা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার কিনে নিতে পারেন।
তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, কেউ আমাদের কাছে ৫০০ কোটি টাকা চায়নি এটা সত্য। কিন্তু যদি ৫০০ কোটির সুটকেস ফেলা যায়, তাহলে অনায়াসেই মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যায়। যদি কোনও দল আমার স্বামীকে মুখ্যমন্ত্রী করে, তাহলে তিনি পাঞ্জাবের উন্নতি করে দেখাতে পারেন। আমাদের কাছে এত টাকা নেই, কিন্তু কোনও দল আমাদের সুযোগ দিলে, আমরা রাজ্যকে সোনায় মুড়ে দেব।
কৌরের এই মন্তব্যে যারপরনাই খুশি হয়েছে আপ ও বিজেপি। আম আদমি পার্টি বলেছে, এতো বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস হয়ে পড়েছে। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গোপন কথা প্রকাশ করে দিয়েছেন দলের নেত্রী। কারা এই টাকা দিয়েছে বা দিচ্ছে এবং কার কাছে এই টাকা পৌঁছচ্ছে তা জনসমক্ষে আনার দাবি জানিয়েছে শাসকদল। বিজেপি কারও নাম না করলেও সরাসরি কংগ্রেস হাইকমান্ডের দিকে আঙুল তুলেছে। কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রীর মতো সম্মানজনক চেয়ারটি নিলামে বিক্রি করে বলে অভিযোগ বিজেপির। দলটিতে চিরকালই দুর্নীতির অসুখ রয়েছে, এবার তা হাটের মাঝে ফাঁস করে দিয়েছেন ওদেরই নেত্রী।