আদালত এদিন পর্যবেক্ষণে জানায়, দিল্লি পুলিশের ইকনমিক অফেন্সেস উইং ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি এফআইআর দায়ের করেছে।

রাহুল-সোনিয়াড় স্বস্তি!
শেষ আপডেট: 16 December 2025 12:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে ন্যাশনাল হেরাল্ড (National Herald) সংক্রান্ত অর্থপাচার মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi) ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। মঙ্গলবার আদালত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দায়ের করা চার্জশিটে কোনও আমলই দিতে চাইল না। যার ফলে ফের আদালতে মুখ পুড়ল এই কেন্দ্রীয় এজেন্সির। আদালতের এই রায়ের পর কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ দ্য ওয়ালকে বলেন, স্রেফ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য তাড়িত এই মামলা। এর ভবিতব্য এটাই ছিল।
বিশেষ বিচারক (পিসি অ্যাক্ট) বিশাল গোগনে এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বেআইনি লেনদেন আইন (PMLA)-এর অধীনে ইডির অভিযোগ আইনত দাঁড়াচ্ছেই না। কারণ, এই মামলার ভিত্তি কোনও এফআইআর নয়, বরং একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ। আইন অনুযায়ী, এ ধরনের ক্ষেত্রে ইডির চার্জশিটে সরাসরি আমল দেওয়া সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন বিচারক।
এই মামলায় সোনিয়া ও রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে সুমন দুবে, স্যাম পিত্রোদা, ইয়ং ইন্ডিয়ান, ডোটেক্স মার্চেন্ডাইজ প্রাইভেট লিমিটেড এবং সুনীল ভান্ডারির। তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তে তাঁদের সকলের বিরুদ্ধেই ইডির মামলার অগ্রগতি আপাতত থমকে গেল।
আদালত এদিন পর্যবেক্ষণে জানায়, দিল্লি পুলিশের ইকনমিক অফেন্সেস উইং ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি এফআইআর দায়ের করেছে। ফলে সেই তদন্তের ফলাফল না দেখে ইডির যুক্তির ভিত্তিতে মামলার মেরিট বিচার করা প্রিম্যাচিওর হয়ে যাবে।
কী অভিযোগ ছিল ইডির? (National Herald ED Case)
ইডি অভিযোগ করেছিল, অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড (AJL)-এর প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংস্থার দাবি, ইয়ং ইন্ডিয়ান নামের একটি সংস্থা তৈরি করা হয়েছিল, তাতে সোনিয়া ও রাহুল গান্ধীর সম্মিলিত শেয়ারহোল্ডিং ছিল ৭৬ শতাংশ। ৯০ কোটি টাকার ঋণের বিনিময়ে এই সংস্থা AJL-এর সম্পত্তি দখল করে নেয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বেআইনি লেনদেনের মামলা রুজু করেছিল ইডি।
কংগ্রেসের সওয়াল কী ছিল?
এদিন আদালতে কংগ্রেস সাংসদ ও আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি মামলাটিকে ‘অদ্ভুত ও নজিরবিহীন’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, এই মামলায় এক টাকাও লেনদেন হয়নি, কোনও স্থাবর সম্পত্তির হাতবদলও হয়নি। সমস্ত সম্পত্তিই AJL-এর কাছেই রয়েছে। অথচ এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিজেপি ‘অতিরঞ্জনের পাহাড়’ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইডি কী বলছে?
আদালতের এই রায়ে স্বস্তি মিললেও, ইডি (ED) সূত্রে জানা গিয়েছে, তারা এই নির্দেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের বিস্তারিত রায় খতিয়ে দেখে নতুন করে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেই জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
আদালত এদিন অভিযুক্তদের এফআইআর-এর কপি দেওয়ার আবেদনও খারিজ করেছে। সব মিলিয়ে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় নতুন মোড় এলেও, আইনি লড়াই যে এখানেই শেষ হচ্ছে না, তা স্পষ্ট।