মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই প্রথম ভারত-মার্কিন যৌথ উদ্যোগে তৈরি নিসার (NISAR satellite) উপগ্রহের উৎক্ষেপণ হতে চলেছে। পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের উপর পর্যবেক্ষণ করবে এই উপগ্রহ।

উৎক্ষেপণের জন্য তৈরি নিসার। ছবি ইসরোর সৌজন্যে।
শেষ আপডেট: 30 July 2025 11:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ, বুধবার বিকেলে ফের মহাকাশ ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে চলেছে ভারত। মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই প্রথম ভারত-মার্কিন যৌথ উদ্যোগে তৈরি নিসার (NISAR satellite) উপগ্রহের উৎক্ষেপণ হতে চলেছে। পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের উপর পর্যবেক্ষণ করবে এই উপগ্রহ। এটি তৈরি করেছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO) এবং মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। বুধবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে নিসার কক্ষপথের উদ্দেশে রওনা দেবে। এই উপগ্রহের লক্ষ্য হল, ভূপৃষ্ঠের মাটি, তুষার এবং বাস্তুতন্ত্রের পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা ও রিপোর্ট সংগ্রহ।
নিসার নামটি হয়েছে নাসা এবং ইসরো নামের সংযোজনে। এটির পুরো নাম নাসা-ইসরো সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার স্যাটেলাইট। দুদেশের মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করতে এই উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে ভারত-মার্কিন গবেষকদের দক্ষতা ও সফ্টওয়্যার-হার্ডওয়্যার বিনিময়ে এই উপগ্রহের জন্ম হয়েছে।
উপগ্রহটি গোটা পৃথিবীকে এমনভাবে প্রদক্ষিণ করবে যাকে সান-সিনক্রোনাস কক্ষপথ বলে। অর্থাৎ উপগ্রহের ঘূর্ণন প্রক্রিয়াটি হবে দুই মেরুর খুব কাছ থেকে (৯০ ডিগ্রি কৌণিক অবস্থানে) পৃথিবীর নির্দিষ্ট একটি এলাকার উপর দিয়ে প্রতিদিন একই সময়ে পেরিয়ে যাওয়া।
উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ঘড়ির সময় কমতে শুরু করেছে গত ২৯ জুলাই দুপুর ২টো ১০ মিনিট থেকে। অভিযানটির বিভিন্ন পর্বে থাকবে উৎক্ষেপণ, মহাকাশে স্থাপন, কক্ষপথে নির্দিষ্ট কোণে স্থাপন এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড। উপগ্রহটিকে মহাকাশে পৌঁছে দেবে জিএসএলভি-এফ ১৬ (GSLV-F16) রকেট।
নিসারের ওজন হল ২,৩৯৩ কেজি। আয়ুষ্কাল ৫ বছর। ৫১.৭ মিটার লম্বা ত্রিস্তরীয় GSLV-F16 রকেটে করে নিসার মহাশূন্যের পথে উড়ে যাবে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে উৎপেক্ষণ হবে। ইসরো জানিয়েছে, নিসার উপগ্রহের কাজ হবে, ভূমি ও তুষারের ক্ষয় সম্পর্কে গবেষণা, জমির বাস্তুতন্ত্র এবং আমেরিকা ও ভারতের মিলিত স্বার্থ রয়েছে এমন মহাসাগরীয় এলাকার পরীক্ষানিরীক্ষা। এছাড়াও এই উপগ্রহ বনাঞ্চলের মরশুমি পরিবর্তন, পর্বতের চ্যুতি, হিমালয় ও আন্টার্কটিকায় হিমবাহের গতিপ্রকৃতি, উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সম্পর্কে খবরাখবর ও ছবি পাঠাবে।