ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 January 2025 17:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্র ভোটের পর নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছিল কংগ্রেস। গোটা প্রক্রিয়াটাই গলদে ভরা বলে দাবি জানিয়েছিল হাত শিবির। এবার মন কি বাত অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের ভূয়সী প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জানালেন, “নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক করতে দীর্ঘ সময় ধরেই একের পর এক প্রযুক্তির ব্যবহার করেছে। যা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। এতে আমাদের ভোট প্রক্রিয়া আরও উন্নত হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বেতার অনুষ্ঠান মাসের শেষ রবিবার মূলত সম্প্রচারিত হয়। কিন্তু এবার ওই দিনে সাধারণতন্ত্র দিবস পড়ার কারণে সেকারণে এক সপ্তাহ আগেই সম্প্রচারিত হল মন কি বাত। নতুন বছরের প্রথম মন কি বাতে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “আমি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। বিভিন্ন সময়ে কমিশন আমাদের ভোট প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক করছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভোটপ্রক্রিয়াকে উন্নত করেছে।”
আগামী ২৫ জানুয়ারি জাতীয় ভোটার দিবস। এই দিনেই গঠিত হয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সে কারণেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও মজবুত এবং আধুনিক করার জন্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানান মোদী। পাশাপাশি চলতি বছর দেশের সংবিধান কার্যকর হওয়ার ৭৫ বছর বছর পূর্ণ হচ্ছে। তাই এ বারের প্রজাতন্ত্র দিবস বিশেষভাবে স্মরণীয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে, তেমনই কুম্ভমেলা, সাধারণতন্ত্র দিবসের পাশাপাশি একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রসঙ্গ। কয়েক দিন পরেই অর্থাৎ আগামী ২৩ জানুয়ারি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন। এদিন মোদী সুভাষচন্দ্রের গোমো যাত্রার কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, “এক মুহূর্তের জন্য সেই দৃশ্যটি মনে করুন। জানুয়ারি মাসের কলকাতা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখন চরম পর্যায়ে। রাতের অন্ধকারে একটি লম্বা ঝুলের খয়েরি রঙা কোট, প্যান্ট এবং মাথায় কালো টুপি পরে ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন এক জন। উঠে বসলেন গা়ড়িতে। কড়া পুলিশি নজরদারির বেশ কয়েকটি চেকপয়েন্ট পার করে গাড়িটি গিয়ে পৌঁছল গোমো রেল স্টেশনে।”
এখানেই থেমে থাকেননি মোদী। তিনি নেতাজির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, “নেতাজি আফগানিস্তান হয়ে ইউরোপে পৌঁছে যান। সেখান থেকেই ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এই কাহিনি আপনাদের কাছে কোনও সিনেমার মতো মনে হতে পারে। তাঁর এই অসীম সাহসিকতার কথায় আপনারা হয়তো অবাক হচ্ছে। এই ব্যক্তি আর কেউ নন, তিনি আমাদের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।” ২০২১ সাল থেকে নেতাজিকে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছরই ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিনটিকে পরাক্রম দিবস হিসেবে পালন করে মোদী সরকার।
পাশাপাশি এদিন মহা কুম্ভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়াগরাজে ভক্তদের ভিড় দেখে আমি আপ্লুত। ভারতীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী কোটি কোটি মানুষের কাছে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। অসংখ্য মানুষের বিশ্বাস, ভক্তি ও সংস্কৃতির পবিত্র মেলবন্ধন হল মহাকুম্ভ। সবাইকে ধন্যবাদ জানাই এত বড় কর্মযজ্ঞে নিজেদের সামিল করার জন্য।