চিনের এই ‘৯-৯-৬’ মডেলও (9-9-6 Model) পরবর্তীতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। অতিরিক্ত চাপ, মানসিক ক্লান্তি ও ব্যক্তিগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাবের কারণে ২০২১ সালে ওই দেশের সুপ্রিম কোর্ট (China Supreme Court) এটিকে অবৈধ ঘোষণা করে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 November 2025 16:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে তরুণদের আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে, একথা আগেও বহুবার বলেছেন ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণ মূর্তি (Infosys founder Narayana Murthy)। ফের একবার সেই মতেই অটল রইলেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আবারও জোর দিলেন দীর্ঘ 'ওয়ার্কিং আওয়ার্স'-এর পক্ষে। চিনের ‘৯-৯-৬’ কর্মসংস্কৃতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দেশের উন্নতির জন্য ভারতীয় তরুণদেরও ৭২ ঘণ্টা কাজ করার (72 hour work week) মানসিকতা নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে।
৭৯ বছর বয়সি এই শিল্পপতি বলেন, চিন গত কয়েক দশকে যে গতিতে উন্নতি করেছে, তা কোনওভাবেই সহজ অর্জন নয়। তাই ভারতকে সেই পথ ধরতে হলে কঠোর পরিশ্রম ছাড়া উপায় নেই। তাঁর দাবি, চিনে ‘৯-৯-৬’ মডেল জনপ্রিয় হয়েছিল, যেখানে কর্মীরা সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, সপ্তাহে ছ'দিন কাজ করতেন। অর্থাৎ সপ্তাহে মোট ৭২ ঘণ্টা। নারায়ণ মূর্তির কথায়, এ ধরনের কঠোর পরিশ্রমই একটি দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেও ইনফোসিস প্রতিষ্ঠাতা (Infosys founder Narayana Murthy) বলেছিলেন, ভারতীয়রা যদি সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজ করেন, তাহলে দেশ দ্রুত উন্নতির পথে হাঁটতে পারবে। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার তিনি তাঁর সেই মত আরও বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করলেন। তাঁর কথায়, চিন আজ যে জায়গায় পৌঁছেছে, তার পেছনে রয়েছে জনগণের কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ় মানসিকতা ও কর্মসংস্কৃতি।
চিনের এই ‘৯-৯-৬’ মডেলও (9-9-6 Model) পরবর্তীতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল। অতিরিক্ত চাপ, মানসিক ক্লান্তি ও ব্যক্তিগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাবের কারণে ২০২১ সালে ওই দেশের সুপ্রিম কোর্ট (China Supreme Court) এটিকে অবৈধ ঘোষণা করে। তবে বাস্তবে এখনও অনেক সংস্থায় এই রীতি আংশিকভাবে বজায় রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
'ভারত কি সত্যিই চিনকে উৎপাদন বা অর্থনৈতিক উন্নয়নের দৌড়ে টেক্কা দিতে পারবে?' এই প্রশ্নের উত্তরে নারায়ণ মূর্তি বলেন, 'সম্ভব, কিন্তু কঠিন।' তাঁর মতে, ভারতের অর্থনীতি এখনও চিনের প্রায় ছ'ভাগের এক ভাগ। তাই দ্রুত এগোতে হলে সরকার, আমলা, রাজনীতিবিদ, কর্পোরেট নেতা- সবাইকে সমানভাবে পরিশ্রমী এবং অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে।
প্রবীণ শিল্পপতির স্পষ্ট কথা, "উন্নতির পথ কঠিন। তবে সবাই যদি নিজের কাজের জায়গায় সেরা পারফরম্যান্স দেয়, তাহলেই ভারত চিনের সমান জায়গায় পৌঁছাতে পারবে।"