ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় সড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অনেকে কথা বলছেন। যদিও প্রশাসনের তরফে এনিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 11 August 2025 12:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগপুর-জবলপুর জাতীয় সড়কে চোখে পড়ল এক মর্মান্তিক দৃশ্য। মোটরবাইকের পেছনে বাঁধা এক মহিলার নিথর দেহ, আর বাইক চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর স্বামী। অভিযোগ, স্ত্রীকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরও আশপাশের কেউ সাহায্যের হাত বাড়াননি। বাধ্য হয়েই স্ত্রীর মৃতদেহ নিজের সঙ্গে বেঁধে বাড়ির পথে রওনা দেন।
ঘটনাটি ৯ অগস্টের, রাখি বন্ধনের দিন। পুলিশ সূত্রে খবর, ৩৫ বছরের অমিত যাদব স্ত্রী গয়ারসিকে নিয়ে নাগপুরের লোনারা থেকে মধ্যপ্রদেশের করণপুর যাচ্ছিলেন। পথে, মোরফাটা এলাকার কাছে একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাঁদের ধাক্কা মারে। ধাক্কার পর রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে যান গয়ারসি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ট্রাকটি থামেনি, বরং মহিলাকে চাপা দিয়ে সোজা চলে যায়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্ত্রীকে উদ্ধার করার জন্য অমিত রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে যান, পথচারীদের কাছে সাহায্য চান। কিন্তু অভিযোগ, কেউই থামেননি, কেউ সাহায্যও করেননি। শেষমেশ, স্ত্রীর নিথর দেহ মোটরবাইকের পেছনে বসিয়ে, নিজের সঙ্গে বেঁধে মধ্যপ্রদেশের গ্রাম সিওনি-র উদ্দেশে রওনা দেন।
এই দৃশ্যের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, যা নাকি পুলিশ নিজেরাই রেকর্ড করে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অমিত বাইক চালাচ্ছেন, পেছনে বাঁধা গয়ারসির দেহ। কিছু দূর যাওয়ার পর একটি পুলিশ ভ্যান তাঁকে থামায়। এরপর মহিলার দেহ নিয়ে যাওয়া হয় নাগপুরের ইন্দিরা গান্ধী মেডিক্যাল কলেজে, ময়নাতদন্তের জন্য।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে একটি আকস্মিক মৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অমিত ও গয়ারসি নাগপুরের লোনারায় থাকলেও তাঁদের স্থায়ী বাড়ি মধ্যপ্রদেশের সিওনিতে।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় সড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অনেকে কথা বলছেন। যদিও প্রশাসনের তরফে এনিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।