
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 29 October 2024 13:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একের পর এক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমানে বোমাতঙ্ক ছড়ানোর 'নায়ক'কে গ্রেফতার করল মহারাষ্ট্রের নাগপুর পুলিশ। তিনি আবার যে সে লোক নন, রীতিমতো সন্ত্রাসবাদের উপর লেখা গ্রন্থের লেখক। পুলিশ তাঁকে চিহ্নিত করে ফেলার পর থেকে তিনি চোখে ধুলো দিয়ে বেড়ালেও গ্রেফতারির খবর মঙ্গলবার জানা যায়। এই ব্যক্তি এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রেলমন্ত্রী, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডিজিপি, আরপিএফকেও ই-মেল করে হুমকি দিয়েছেন। গোন্ডিয়ার বাসিন্দা ৩৫ বছরের এই ব্যক্তির বোমাতঙ্কেই শয়ে শয়ে বিমানযাত্রীকে রোজ বিভ্রাটে পড়তে হয়েছে। বিমান ও বিমানবন্দরে তল্লাশি চালিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে এবং উড়ানে দেরি হয়েছে।
নাগপুর পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এক আধিকারিক জানান, এই ব্যক্তির নাম জগদীশ উইকে। ২০২১ সালে তাঁকে অন্য একটি মামলায় একবার গ্রেফতার করা হয়েছিল। সন্ত্রাসবাদের উপর একটি বইও লিখেছেন তিনি। পদস্থ পুলিশ আধিকারিক জানান, যখনই জানা গিয়েছে, এই ই-মেলগুলি তাঁর কাছ থেকেই এসেছে, তখন থেকে তিনি বেপাত্তা ছিলেন।
ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ শ্বেতা খেড়করের নেতৃত্বে মেলে হুমকি দিয়ে বোমাতঙ্ক ছড়ানোর তদন্ত চলছে। ডিসিপি শ্বেতা খেড়কর তদন্তের বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়েছেন। তাতে জানা গিয়েছে, উইকে শুধু বি্মানে বোমাতঙ্ক ছড়ানো নয়, বিভিন্ন সরকারি অফিস ও নেতা-মন্ত্রীদেরও হুমকি দিয়ে মেল করেছেন। তাঁর হুমকির জেরে সোমবার থেকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের বাড়ির বাইরে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উইকের দাবি, তাঁর কাছে সন্ত্রাসবাদীদের গোপন কোডগুলি রয়েছে, যা তিনি পাঠোদ্ধার করেছেন। সে সম্পর্কে সরকারকে তথ্য সরবরাহ করতে চান তিনি। তাঁকে সেই সুযোগ না দিলে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করবেন বলেও মুখ্যমন্ত্রীকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। এছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রার্থনা জানিয়েছিলেন। মোদীকে তিনি জঙ্গিদের হুমকি সম্বন্ধে তাঁর জ্ঞানগম্যি নিয়ে আলোচনার দাবি জানান।
গত ২১ অক্টোবর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে উইকে আরেকটি মেল পাঠিয়েছিলেন বলে নাগপুর পুলিশের দাবি। সেই চিঠির কপি দেওয়া হয়েছিল ডিজিপি এবং আরপিএফকে। সেখানে তিনি রেল স্টেশনগুলিতে নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিলেন। পুলিশকর্তা জানান, একটি বিশেষ দল উইকে-কে গ্রেফতারের জন্য গঠন করা হয়েছে। তাঁকে শীঘ্রই পুলিশ ধরে ফেলবে। প্রসঙ্গত, ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১৩ দিনে ৩০০টির বেশি বিমানে বোমাতঙ্ক ছড়ানো হয়েছিল। যার বেশিরভাগ হুমকি বার্তা এসেছিল সোশ্যাল মিডিয়া মারফত। শুধুমাত্র ২২ অক্টোবরেই প্রায় ৫০টি হুমকি বার্তা এসেছিল বলে সূত্রে জানা গিয়েছে।