পদপিষ্টের ঘটনার পরে গঙ্গা, যমুনা এবং অন্তঃসলিলা সরস্বতীর সংযোগস্থল ত্রিবেণী সঙ্গম কার্যত খালি করে দেওয়া হয়। কিন্তু এখন আবার সেখানে একে একে যেতে শুরু করেছেন সাধু-সন্ন্যাসী, ভক্তরা। তথ্য বলছে, মঙ্গলবার যখন পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে, তখন কুম্ভমেলায় হাজির ছিলেন ৮ কোটি মানুষ। এর মধ্যে শাহি-স্নানের উন্মাদনায় গা ভাসিয়েছিলেন সাড়ে ৫ কোটি।
কিছু পুণ্যার্থীদের বিরুদ্ধে ধাক্কা মারার অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন। তাঁরা দাবি করেছেন, ভিড় বাড়তে থাকলেও কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি, উল্টে ধাক্কা মারা হয় জলের মধ্যে। তার জন্য আরও শোরগোল শুরু হয়। এই কারণে বহু ভক্ত মৌনী অমাবস্যার স্নান না করেই ফিরে যেতে বাধ্য হন।
এত ভিড়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা যে পদে পদে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সে জন্য সরকারি প্রস্তুতিও কম নেওয়া হয়নি গত কয়েক মাস ধরে। ১৪৪ বছর পরে ফিরে আসা এই মহাকুম্ভে ৪৫ দিনের এই মেলায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ভক্তদের নিরাপত্তার জন্য একাধিক পদক্ষেপ করেছিল। ঘোড়ায় চড়ে টহল দেওয়ার পাশাপাশি জলে মোতায়েন করা হয় ভাসমান পুলিশ চৌকি। নজরদারি রাখে হয় হেলিকপ্টারেও। কিন্তু বিপদ এড়ানো যায়নি। চলতি মাসের ১৯ তারিখেই আগুন লেগে ছাই হয়ে যায় একের পর এক তাঁবু। তার ১০ দিনের মাথায় ঘটে গেল পদপিষ্টের ঘটনা।
কুম্ভমেলায় এমন দুর্ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। মেলার ইতিহাস বলছে, এর আগেও পুণ্যস্নানে এসে পদপিষ্ট হয়েছেন বহু মানুষ। ১৯৫৪ সালের প্রথম কুম্ভমেলা থেকে ২০২৫, তালিকাটা খুব একটা ছোট নয়। এর আগে ১৯৮৬, ২০০৩, ২০১৩ সালেও এমন ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার দুপুরের কিছু পরেই ফের 'অমৃত স্নান' শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হওয়ার পথে। নতুন করে শাহি-স্নান শুরু হওয়ার সময়ে 'পুষ্পবৃষ্টি' করানো হয়।


.jpeg)