ইতিমধ্যে পুরো ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন তদন্ত কমিশন ও ক্ষতিপূরণ এর ঘোষণা করেছেন।

ছবি সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 28 September 2025 06:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তামিলনাড়ুর কারুরে (Tamilnadu Stampede) শনিবার সন্ধ্যায় অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বিজয়ের দল তামিলাগা ভেতত্রি কাজগাম (TVK)-এর নির্বাচনী র্যালিতে পদপিষ্টের ঘটনায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। হাসপাতালগুলিতে হাহাকার। বিজয়ের দেরিতে পৌঁছনো নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
এ ব্যপারে অভিনেতা বিজয় (TVK Chief Vijay) তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমার হৃদয় বিধ্বস্ত। আমি এমন এক অসহ্য যন্ত্রনায় ছটফট করছি, যা ভাষায় ব্যক্ত করা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও লেখেন, “কারুরে আমার প্রিয় ভাই-বোনদের যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে আমি গভীর সমবেদনা জানাই। যাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাঁদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।”
তামিলনাড়ুর কারুরে অভিনেতা তথা টিভিকে প্রতিষ্ঠাতা বিজয়ের জনসভায় শনিবার রাতের পদপিষ্টের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৮ জন। অসমর্থিত সূত্রের খবর, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৬ জন মহিলা ও ৮ জন শিশু। বহু মানুষ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, বিজয় র্যালির জন্য দুপুর ১২টার সময়সূচি থাকলেও তিনি পৌঁছন সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ। ততক্ষণে সভাস্থলে মানুষের ঢল নামায় রাস্তা, ব্যারিকেড, এমনকি ক্যাম্পেইন বাস চলাচল করাও সম্ভব হচ্ছিল না। সম্ভবত এই দীর্ঘক্ষণ দেরি নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
এ ব্যাপারে ডিএমকে মুখপাত্র সারাভানন অন্নাদুরাই সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। জনসমাগম আরও বাড়াতে ইচ্ছাকৃত দেরি করানো হয়েছে। এটি একটি সস্তা রাজনৈতিক চাল। বিজয় দায় এড়াতে পারেন না। যাঁরা দায়ী, তাঁদের গ্রেফতার করতে হবে।”
ইতিমধ্যে পুরো ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন তদন্ত কমিশন ও ক্ষতিপূরণ এর ঘোষণা করেছেন। এক বিবৃতিতে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন জানান, মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার জন্য সেরা চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পদপিষ্টের ঘটনায় হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অরুণা জগদীশন-এর নেতৃত্বে এক সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, “এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় আমরা সবাই মর্মাহত। আমি কারুর যাচ্ছি, মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করব এবং হাসপাতালে গিয়ে আহতদের অবস্থা খতিয়ে করব।”
এদিকে গোটা ঘটনায় কারুর জেলার হাসপাতাল ও প্রশাসনিক মহল জুড়ে চরম আতঙ্ক ও অরাজকতা তৈরি হয়েছে। বহু পরিবার এখনো তাঁদের প্রিয়জনদের খোঁজে উদ্বিগ্ন। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য অনুযায়ী, “ব্যারিকেড ভেঙে পড়ার পর মানুষ একে অপরকে চাপা দিতে দিতে দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করছিল।”
এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি উঠছে একটি বড় প্রশ্ন— এত বড় জনসমাবেশে নিরাপত্তা ও জননিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতার দায় শেষ পর্যন্ত কে নেবে?