
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 29 November 2024 17:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাদক পাচারের অভিযোগে গত এপ্রিল মাসেই গ্রেফতার হয়েছিল দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক মহিলাকে। ছ’মাস কাটতে না কাটতেই বন্দিনীকে সাময়িক জামিন দেওয়ার কথা ঘোষণা করল বম্বে হাইকোর্ট। আদালতের তরফে অভিযুক্তর জামিন মঞ্জুর করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শুধুমাত্র মানবিকতার খাতিরে প্রসবের জন্য মহিলাকে ৬ মাসের জন্য জেলের বাইরে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি প্রসব যন্ত্রণার কারণে ড্রাগ পাচার মামলায় অভিযুক্ত মহিলা বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালতে অভিযুক্তর আইনজীবী জানান, মানবিকতার খাতিরে এই সময়ে জামিন দেওয়া হোক মক্কেলকে।
হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ মামলার সওয়াল জবাব শেষে জানিয়ে দেন, সন্তান প্রসব করা এবং পরবর্তীতে বাচ্চার দেখভালের জন্য আগামী ছ’মাস জেলের বাইরে থাকবে বর্তমানে ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা মহিলা।
বিচারপতি ঊর্মিমালা যোশী ফালকে পরিষ্কার জানিয়েছেন, জেলের পরিবেশ কখনওই একজন সদ্যোজাতর জন্য একেবারেই ঠিক জায়গা নয়। সেখানে বাচ্চার জন্ম দিলে মা ও সন্তান দু’জনের উপরেই খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই সে ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বিচার করেই বন্দিনীর জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।
গত এপ্রিল মাসে মহারাষ্ট্রের গোন্দিয়া স্টেশনের নিরাপত্তারক্ষীরা গোপন সূত্রে মাদক পাচারের খবর পেয়ে একটি ট্রেনে তল্লাশি চালায়। এরপরই নিষিদ্ধ মাদক-সহ গ্রেফতার করা হয় পাঁচ জনকে। অভিযুক্তদের তালিকায় সুরভি সোনি নামের ওই মহিলাও ছিলেন। তাঁর ব্যাগ থেকে সাত কিলোগ্রাম গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। তবে গ্রেফতারির সময় সোনি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল বলে খবর। পরে কারাগারের বাইরে যাতে তিনি সন্তানের জন্ম দিতে পারে এবং সুস্থভাবে তাকে মানুষ করতে পারে সে কারণেই আদালতের দ্বারস্থ হয় অভিযুক্ত।
হাইকোর্টর নাগপুর বেঞ্চ জানিয়েছে, এটা একেবারেই ঠিক যে হেফাজতে থাকাকালীন একটি সরকারি হাসপাতালেই অভিযুক্তর চিকিৎসা করা যেতে পারে। কিন্তু জেলের পরিবেশ গর্ভাবস্থায় একেবারেই বাচ্চা ও মায়ের জন্য নিরাপদ নয় বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।
আদালত জানিয়েছে, যে কোনও বন্দিই এই আবেদন জানাতে পারে। কারাগারে সন্তান প্রসব করলে একাধিক সমস্যার কথা মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত। তবে অনেকেই বম্বে হাইকোর্টের পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানালেও অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন, এভাবে যদি বন্দিরা ছাড়া পেয়ে যায়, তাহলে আগামীদিনে হিংসা কমা তো দূর, উল্টে আরও বাড়বে।