
শেষ আপডেট: 1 May 2025 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তখন কেউ জিপ লাইন করছে তো কেউ ট্র্যাম্পলিনে লাফাচ্ছেন, কেউ শুধুই সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। অনেকেই আবার ম্যাগি পয়েন্টে দুপুরের লাঞ্চ সেরে নিচ্ছেন। কেউ বিশ্রাম করছেন গাছের তলায়। ২২ এপ্রিল, মঙ্গলবার দুপুরে এরই মাঝে ঘটে যায় ভয়ঙ্কর ঘটনা। গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে বৈসরন। কে কোনদিকে যাবে, কীভাবে প্রাণ বাঁচাবে বুঝে ওঠার আগেই দুমদাম মৃত্যু হয় ২৬ জনের। যা নিয়ে উত্তাল দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। এনআইএ তদন্ত শুরু করেছে। একে একে উঠে আসছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, জঙ্গিদের টার্গেট ছিল কাশ্মীরের পহেলগাম। লিডারের জল রক্তাক্ত করতে ওই এলাকায় তারা পৌঁছেছিল ১৫ এপ্রিল। আমরা যখন বাংলায় পয়লা বৈশাখ উদযাপনে ব্যস্ত, কেউ কেউ উদযাপন সেরে কাশ্মীরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন সেখানে মিশন সেট করছিল তারা। সূত্র বলছে, শুধুমাত্র বৈসরনে গেছে, সেখানে রেইকি করেছে, থেকেছে এবং ঝোপ বুঝে কোপ মেরেছে এমন নয়। এক্ষেত্রে প্ল্যান বি-ও ছিল তাদের কাছে।
পহেলগামের দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে আরু ভ্যালি, বেতাব ভ্যালি, বৈসরন ও চন্দরওয়াড়ি। পহেলগাম গেলে সৌন্দর্য ও প্রকৃতি উপভোগ করার জন্য এই চার জায়গায় গিয়ে থাকেন পর্যটকরা। বৈসরন ঘোড়ায় করে যেতে হয় বলে একটা গোটা দিন পেরিয়ে যায়। ঠিক সেজন্য অনেকেই এই জায়গায় বাদ দিয়ে দেন কিন্তু আরু, বেতাবে যায় না এমন মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা।
এই আরু, বেতাবই ছিল জঙ্গিদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু রেইকি করে তারা বুঝতে পারে, এই দুই এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে ও হামলা চালানো বা হামলার পর এলাকা থেকে পালানো খুব একটা সহজ হবে না। ফলে টার্গেটের তালিকা থেকে এই দুই জায়গা বাতিল হয়। এরপর একটি স্থানীয় অ্যামিউজমেন্ট পার্ককে বেছে নেওয়া হয়। সেখানেও একই সমস্যা, নিরাপত্তা। ফলে সেটিও তালিকা থেকে বাদ দিতে হয়। একদম শেষে বৈসরনকে বেছে নেয় তারা। দুর্গম পথ, পর্যটকদের ক্ষেত্রে পালিয়ে যাওয়া সহজ নয়-সহ একাধিক বিষয় মাথায় রেখে এই বৈসরনেই হামলা চালানো হয়।
এনআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদেশি জঙ্গিদের সহায়তা করার জন্য প্রায় ২০ জন ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কাস বা OGW-র একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল। এদের মধ্যে কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদের ওপর নজরদারি চলছে। আজ, বৃহস্পতিবার পহেলগামে পৌঁছেছেন তদন্তকারী সংস্থার ডিজি। এলাকা ঘুরে দেখছেন তিনি।
এদিকে গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে, অন্তত চারজন ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কাস এই হামলার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে সরাসরি সহযোগিতা করেছে বলে জানা যাচ্ছে। তাদের মাধ্যমে রেইকি এবং লজিস্টিক সাপোর্টের ব্যবস্থা হয়েছিল। এছাড়াও হামলার আগে তিনটি স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দু'টি ফোনের সিগন্যাল ট্রেস করা সম্ভব হয়েছে।
ঘটনায় সরাসরি নাম জড়িয়েছে লস্কর-ই-তইবার। সূত্র বলছে, এই হামলার পর থেকে পাকিস্তানের তরফে তার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র বাহিনী থাকছে তার বাড়ির বাইরে। সিসিটিভি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে এলাকা। লাহোরে ওই বাড়িতে সর্বক্ষণ নজর রেখেছে পাক প্রশাসন। তাদের সঙ্গে গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ও পাক সেনাও যোগ দিয়েছে। সবাই মিলে হাফিজ সৈদকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।