
পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে
শেষ আপডেট: 25 March 2024 18:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এককালে মাউন্ট এভারেস্টে চড়া ছিল একটা ব্যাপার! ‘এভারেস্টজয়ী’ শব্দটা কালেভদ্রে শোনা যেত। কিন্তু সময় যত এগোচ্ছে, পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গে চড়াটাও কেমন ‘জনপ্রিয়’ হয়ে উঠছে। অবস্থা এমনই যে, এভারেস্টে ওঠার মুখে রীতিমত ‘ট্রাফিক জ্যাম’ হয়ে যাচ্ছে পর্বতারোহীদের।
এতেই বেজায় চিন্তায় পড়েছে নেপাল। প্রায় ৮৮৪৮ মিটার উঁচু, তুষারধবল মাউন্ট এভারেস্ট নেপাল ও চিন সীমান্তে অবস্থিত। যার দু’দিক দিয়েই আরোহণ করা যায়। চিনের দিক দিয়ে পথটি অপেক্ষাকৃত প্রাচীন, তবে বেশি দুর্গম—পোশাকি নাম ‘নর্থ কল’। ফলে ইদানীং বেশিরভাগ আরোহীই এভারেস্ট-জয়ের কাজ শুরু করেন দক্ষিণে নেপালের দিকের ‘সাউথ কল’ দিয়ে। প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের দিক দিয়ে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই গোটা এলাকা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে নেপাল সরকার, বিনিময়ে পর্বতারোহীদের থেকে মোটা টাকা আয় করে তারা।
কিন্তু ইদানীংকালে এভারেস্ট ওঠায় যেন ঢল নেমেছে পর্বতারোহীদের। গত বছর সাড়ে চারশোরও বেশি ‘সামিট’ অনুমতি ইস্যু করেছিল নেপাল। কিন্তু শুধু ইস্যু করলেই তো হল না। বিপুল সংখ্যক পর্বতারোহী ও তাঁদের সঙ্গী কুলি ও শেরপাদের সঙ্গে যায় ততোধিক পেল্লায় মালপত্রের বহর। যা থেকে তৈরি হয় প্রচুর পরিমাণ কঠিন ও তরল বর্জ্য। ফলে এভারেস্ট অভিযানের মরসুম শেষ হলেই দেখা যায়, গোটা এভারেস্ট চড়ার বিখ্যাত সেই ‘সাউথ কলের’ দু’পাশে পড়ে থাকে অজস্র জঞ্জাল। বিস্তর কাঠখড় পুড়িয়ে, কখনও নেপালের সেনাবাহিনীকে নামিয়ে সেসব সাফাই করতে হয় নেপালকে।
ফলে এবারে অবস্থা বুঝে আগেই আঁটঘাট বেঁধে রাখছে নেপাল সরকার। আশা (পরিবেশকর্মীদের কথায়, আশঙ্কা) করা হচ্ছে, এবারেও হাজারের বেশি সামিট অনুমতি ইস্যু করবে নেপাল। এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদরা। ফলে প্রশাসনের তরফে সাফ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, এভারেস্ট জয় করে নামার সময় নিজেদের ময়লাও নিজেদেরই বয়ে নিয়ে আসতে হবে।
আর এই ময়লার তালিকাতেই যোগ হয়েছে আদি ও অকৃত্রিম-তম বর্জ্যপদার্থটি। অর্থাৎ—বিষ্ঠা।
রীতিমত হিসেব কষে নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্তা বলছেন, ‘প্রত্যেক পর্বতারোহী প্রতিদিন গড়ে ২৫০ গ্রাম করে মলত্যাগ করেন। মোটামুটি গোটা অভিযান চলে দুই সপ্তাহ ধরে। ফলে হিসেব করে প্রত্যেককে দু’টি করে বিশেষ জৈব প্রযুক্তিতে তৈরি বায়ো-ব্যাগ দেওয়া হবে। প্রতিটি ব্যাগ ছয়বার করে ব্যবহার করা যাবে। ভেতরে এমন রাসায়নিক থাকবে, যা ঐ তীব্র শৈত্য ও স্বল্প বায়ুচাপকে কাজে লাগিয়ে মলকে কঠিন পদার্থে রূপান্তরিত করবে। তার দুর্গন্ধও তেমন থাকবে না। ফলে সঠিকভাবে ‘সিল’ করে সেসব বয়ে ফিরিয়ে আনা যাবে।
ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন ও পুরসভার তরফে ৮০০০ এমন ব্যাগ বানানোর বরাত দেওয়া হয়েছে। মাউন্ট এভারেস্ট শুধু প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য নয়, নেপালিদের কাছে বিশেষভাবে পবিত্র শৃঙ্গ বলেও পরিচিত। ফলে এভারেস্টকে যে কোনও মূল্যে স্বচ্ছ ও সাফসুতরো রাখতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে নেপাল।