
শেষ আপডেট: 22 January 2024 17:50
প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে থাকুন বা না থাকুন, বিজেপি তো বটেই সঙ্ঘ পরিবারের অনুষ্ঠানেও নরেন্দ্র মোদীর ভজনা বাদ থাকে না। সোমবার অযোধ্যায় নতুন রাম মন্দিরের উদ্বোধন এবং রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানও বাদ গেল না।
পুজো পর্ব শেষে এক ঘণ্টা বরাদ্দ ছিল প্রধানমন্ত্রী-সহ কয়েকজনের ভাষণের জন্য। মন্দিরের সামনে বিশেষ আমন্ত্রিত সাড়ে সাত হাজার অতিথির। তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে লম্বা ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সভার সঞ্চালক আচার্য গোবিন্দদেও জি থেকে শুরু করে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এমনকী রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত পর্যন্ত মোদী ভজনায় উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। ভাগবতের কথায়, প্রধানমন্ত্রী একজন প্রকৃত তপস্বী।
অবশ্য মোদী ভজনায় বলতে গেলে ভাষণটুকুই বাকি ছিল। রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠান ঘিরে অযোধ্যার নয়া সাজের অন্যতম সংযোজন মোদীর ছবি। গোটা শহর প্রধানমন্ত্রীর ছবি, পোস্টার, হোর্ডিংয়ে ছয়লাপ হয়ে আছে। তাতে নয়া মাত্রা যোগ করলেন ভাগবত, যোগী এবং রাম মন্দিরের মহন্তরা। অথচ মন্দির আন্দোলনের মুখ লালকৃষ্ণ আদবানী, মুরুলি মনোহর যোশীদের মতো মন্দির আন্দোলনের প্রধান মুখগুলির কথা কেউ মুখেও আনলেন না।
আগামী বছর আরএসএসের শতবর্ষ। ওই সংগঠনের বয়সবিধি অনুযায়ী আগামী বছর ৭৫ উত্তীর্ণ হওয়ার পর সাংগঠনিক পদ থেকে সরে যেতে হবে ভাগবতকে। এমন সময় রাম মন্দির উদ্বোধন আরএসএস এবং তাঁর জন্য বড় প্রাপ্তি। অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ ছিল আরএসএসের সাধুসন্তদের সংগঠন বিশ্বহিন্দু পরিষদের আন্দোলন। সেই রাম মন্দির নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী মোদীর অবদানকে বড় করে তুলে ধরছে সঙ্ঘ পরিবার। মন্দির নির্মাণের প্রতিটি পর্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক যোগকে সাধুবাদ জানান ভাগবত।
তবে আশ্চর্যের হল, প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় সবচেয়ে মুখর ছিলেন আচার্য গোবিন্দদেও। মন্দির উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী কীভাবে ১১দিনের কষ্টসাধ্য ব্রত পালন করেছেন, তার উল্লেখ করে এই সাধু বলেন, আমরা মোদীজিকে বলেছিলাম, আপনার শুধু তিন দিন মেঝেতে ঘুমলেই চলবে। কিন্তু তিনি টানা ১১দিন কষ্ট স্বীকার করেছেন। মেঝেতে ঘুমনোর পাশাপাশি অন্যান্য বিধিও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। ওই সাধুর কথায়, এমন একজনকে রাষ্ট্র নেতা হিসাবে পাওয়া পরম সৌভাগ্য।
রাম মন্দিরের পূজাস্থলে সোমবার প্রবেশাধিকার ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদী, উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল, মুখ্যমন্ত্রী যোগী, ভাগবত এবং দুই পুরোহিতের। প্রধানমন্ত্রীর নামে পুজো দেওয়া হল আরতি করার সুযোগ পান বাকিরাও। মন্দির উদ্বোধনকে ঘিরে শহরের নতুন সাজে মোদীর পাশে আছে যোগীর ছবিও। কার ছবি বেশি তা নিয়ে বরং বিতর্ক চলতে পারে। রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে মোদী-যোগী ঠান্ডা লড়াইয়ের জল্পনাও আছে। সোমবারের অনুষ্ঠানে যোগী অবশ্য মোদীকে বিশ্বগুরু বলে সার্টিফেকট দিয়ে বলেন, আর কোনও রাষ্ট্রে এমন নিষ্ঠাবান রাষ্ট্রপ্রধান নেই। যোগীও মোদীও ১১দিনের কষ্টসাধ্য ব্রত পালনের কথা উল্লেখ করেন। যোগীর কথায়, ‘আমরা সংকল্প করেছিলাম, মন্দির ওখানেই বানাবো। সেই সংকল্প পূর্ণ হল। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।’
যোগী এই কথা বললেও আসলে অযোধ্যায় মন্দির-মসজিদ বিবাদের মীমাংসা করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট এবং মুসলিম পক্ষও সেই রায় মেনে নিয়েছে। মন্দির নির্মাণের কথাও শীর্ষ আদালতের রায়ে বলা ছিল। তারপরও মোদীকেই যাবতীয় কৃতিত্ব দিয়েছেন যোগী। বরং মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে শহরের সাজসজ্জায় লালকৃষ্ণ আদবানী, মুরলি মনোহর যোশী, উমা ভারতী, বিনয় কাটিয়ার, প্রবীন তোগারিয়াদের মতো মন্দির আন্দোলনের নেতাদের ছবি না থাকা নিয়ে বিজেপি-সহ গোটা গেরুয়া শিবিরে প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে। সোমবারের অনুষ্ঠানে মোদী, যোগী, ভাগবত, কারও ভাষণেই মন্দির আন্দোলনের মুখ এই সব নেতাদের কথা ছিল না।