মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্ককে বেআইনি ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল কংগ্রেস।
.jpeg.webp)
দলের সাংসদ রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী আপসকামী। তাঁর বিশ্বাসঘাতকতা এখন প্রকাশ্যে। ছবি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
শেষ আপডেট: 21 February 2026 13:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্ককে বেআইনি ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল কংগ্রেস। দলের সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী আপসকামী। তাঁর বিশ্বাসঘাতকতা এখন প্রকাশ্যে।” কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা (Randeep Singh Surjewala) শনিবার বলেন, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য কাঠামো চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন “গভীর অনিশ্চয়তার মেঘে” ঢেকে গেছে। তাঁর প্রশ্ন, “মোদী সরকার কি এবার এই চুক্তি বাতিল করবে?”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে সেদেশের সুপ্রিম কোর্টের রায়। ছয় বনাম তিন মতের রায়ে আদালত জানায়, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অপপ্রয়োগ করে ট্রাম্প প্রশাসন ব্যাপক আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে, যা আইনি সীমা অতিক্রম করেছে। ফলে ‘পারস্পরিক’ ও জরুরি ভিত্তিতে আরোপিত বিলিয়ন ডলারের শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
এর জবাবে ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে বিদেশি পণ্যের উপর নতুন করে সমান হারে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেন, যাতে তাঁর বাণিজ্য নীতি টিকিয়ে রাখা যায়। এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ফেব্রুয়ারির ২৪ তারিখ মধ্যরাতের এক মিনিট থেকে। তবে যে আইনের ধারায় এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে, সেখানে নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। কংগ্রেস অনুমোদন না দিলে তা দীর্ঘমেয়াদি করা যায় না।
এই পরিস্থিতিতে তথাকথিত ‘ঐতিহাসিক’ ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে ভারতের উপর আরোপিত ১৮ শতাংশ ‘পারস্পরিক শুল্ক’ আদৌ টিকবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি আইনের আওতায় আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক আর কার্যকর থাকবে না এবং যত দ্রুত সম্ভব তা আর আদায় করা হবে না।
সুরজেওয়ালা প্রশ্ন তুলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা খারিজের শুনানি আগেই সম্পন্ন হয়েছিল এবং রায় অপেক্ষায় ছিল। তা জেনেও কেন ৬ ফেব্রুয়ারি তড়িঘড়ি করে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য কাঠামো চুক্তি সই করা হল?
তিনি একাধিক প্রশ্ন তুলে ধরেন—
প্রথমত, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে কি সরকার সস্তা রুশ ও ইরানি অপরিশোধিত তেল কেনার ঘোষণা করবে?
দ্বিতীয়ত, দেশের কোটি কোটি কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের জীবিকা রক্ষায় কি সরকার আমেরিকা থেকে খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানি না করার সিদ্ধান্ত নেবে?
তৃতীয়ত, প্রক্রিয়াজাত ভুট্টা, জোয়ার, সয়াবিন, তুলো, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, বাদামসহ অতিরিক্ত খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানি বন্ধ করে কি ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করা হবে?
চতুর্থত, কৃষিক্ষেত্রে ভরতুকি প্রত্যাহার বা জিনগতভাবে পরিবর্তিত ফসল আমদানির অনুমতি না দিয়ে কি বীজের স্বচ্ছতা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা হবে?
পঞ্চমত, আগামী পাঁচ বছরে শুল্কমুক্তভাবে বিপুল পরিমাণ মার্কিন পণ্য আমদানির বাধ্যবাধকতা থেকে কি সরকার সরে আসবে, যাতে দেশীয় শিল্প ও উৎপাদকরা সুরক্ষা পায়?
ষষ্ঠত, দেশের তথ্য ও ডিজিটাল নিরাপত্তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি কি সরকার দেবে?
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও (Jairam Ramesh) প্রধানমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “প্রধানমন্ত্রী যদি নিজের ভঙ্গুর ভাবমূর্তি রক্ষায় এতটা মরিয়া না হয়ে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতেন, তবে দেশের কৃষকদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হত না এবং দেশের সার্বভৌমত্বও সুরক্ষিত থাকত।” তিনি বলেন, “ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি আসলে এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা, যা প্রধানমন্ত্রীর আত্মসমর্পণ ও অস্থিরতার ফল।”