
শেষ আপডেট: 2 April 2025 17:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Indian Prime Minister Narendra Modi) বৃহস্পতিবার দু'দিনের সফরে তাইল্যান্ডেরন (Thailand) রাজধানী ব্যাঙ্ককে (Bangkok) যাচ্ছেন। বঙ্গোপসাগরীয় বোঝাপড়ার মঞ্চ বিমস্টেকের (BIMSTEC) সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসও (Md Yunus, Chief Advisor of Bangladesh) ব্যাঙ্কক যাবেন।
ইউনুসের রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান (Khalilur Rahaman) বুধবার ঢাকায় (Dhaka) বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকটি হচ্ছে বলেই তাদের কাছে খবর। তিনি বলেছেন, আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তাতে এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে যে মোদী-ইউনুস বৈঠকটি হচ্ছে।
নয়া দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের (Ministry of Foreign Affairs, India) অফিসারেরা অবশ্য এখনও নীরব। গত শুক্রবার বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি সাংবাদিক বৈঠকে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যাঙ্কক সফরে শুধুমাত্র তাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নির্ধারিত আছে।
কোন তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান উপদেষ্টার অফিস ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মহম্মদ ইউনুসের বৈঠকের সম্ভাবনার কথা সাংবাদিক বৈঠক ডেকে দাবি করছে তা স্পষ্ট হয়নি। বাংলাদেশ সরকারের তরফে দুই নেতার ব্যাঙ্ককে বিমস্টেক সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু নয়াদিল্লি এখনও সাড়া দেয়নি।
তবে একান্তে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক যদি নাও হয়, বিমস্টেক সম্মেলনের ফাঁকে মোদী-ইউনুসের সৌজন্যের ফটো শেসন হতে পারে বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছে। অর্থাৎ দুই রাষ্ট্রপ্রধান পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সৌজন্য বিনিময় করতে পারেন। যদিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রক এমন সম্ভাবনার বিষয়েও স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।
কূটনৈতিক মহলের খবর, বাংলাদেশ সরকার মোদী-ইউনুস সৌজন্য বিনিময় হলেও খুশি হতে পারে।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ নিজেদের বাধ্যবাধকতা থেকে পদক্ষেপ করছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে ফিরে আসার পর থেকেই বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ট্রাম্প তাঁর প্রথম জমানার মতো এবারও বাংলাদেশকে ভারতের চোখ দিয়ে দেখবেন, ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাছাড়া, মোদীর সঙ্গে একান্তে বৈঠক করে ইউনুস কূটনৈতিক জগতে নিজের গুরুত্ব বাড়িয়ে নিতে চান। আওয়ামী লিগ-সহ সব দলকেও সামলাতেও মোদীর সঙ্গে হাসিমুখ ছবি তাঁর খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তিনি দেখাতে চান ভারতের মতো বৃহৎ প্রতিবেশী, যাঁরা হাসিনা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখত তারা তাঁর সরকারকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
তাছাড়া বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের (Bangladesh minorities) উপর নিপীড়ন, নির্যাতনের অভিযোগকে লঘু করাও তাঁর উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, ভারত ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দুদের (Hindu) উপর নিপীড়ন, নির্যাতনের অভিযোগই জোরালো ভাবে তুলেছে।
নয়া দিল্লির কর্তারা মনে করছেন ইউনুসের প্রত্যাশাপূরণ এই মূহূর্তে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জন্য নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করবে। সদ্য চিন সফরে গিয়ে ইউনুস যে ভাষায় ভারতের উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলি নিয়ে মন্তব্য করেছেন ভারত সরকার তা ভালভাবে নিচ্ছে না।
অন্যদিকে, মোদী-ইউনুস বৈঠক রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লিগকে (Awami League) বেকায়দায় ফেলবে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে। যদিও ভারত সরকারের কাছে আওয়ামী লিগের তুলনায় বাংলাদেশের হিন্দুদের স্বার্থ বেশি বিবেচিত হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক মহলের খবর, ইউনুসের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে ভারত সরকারের অন্দরে দুটি বিপরীত মত আছে। বিদেশ মন্ত্রকের বাংলাদেশ ডেস্কের কুটনীতিকদের একাংশ মনে করেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার আর্জি রক্ষা করা দরকার। প্রধানমন্ত্রী মোদী বাংলাদেশের চলতি পরিস্থিতি নিয়ে ইউনুসকে মুখের উপর ভারতের অসন্তোষের কথা জানাতে পারেন। কিন্তু বৈঠকের প্রস্তাব উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত প্রতিবেশীর সঙ্গে বৈরিতাকেই উসকে দেবে। তাতে চিনের বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ আরও বেড়ে যাবে।
কিন্তু আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বক্তব্য, ইউনুস সরকার আসলে পাকিস্তানের (Pakistan) কাছে কথায় চলছে। পাকিস্তানের মতোই জঙ্গিদের আঁতুরঘর হয়ে উঠছে দেশটি। এই পরিস্থিতিতে ইউনুসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বৈঠক ভারতের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই লঘু হয়ে যাবে। পাকিস্তানের মতোই বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়ার ভারত সম্পর্কের আন্তরিকতার বার্তা দিতে চাইছে না। বাংলাদেশের লাগাতার অনুরোধের মুখে প্রধানমন্ত্রী মোদী দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে রাজি শেষ পর্যন্ত যদি রাজি হন তার আগে ভারত স্পষ্ট করে দিতে চায় বাংলাদেশ সরকারের আচরণে নয়াদিল্লি খুশি নয়।