পাকিস্তানে সেনা সংক্রান্ত গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে আম্বালা থেকে গ্রেফতার এক যুবক। তদন্তে উঠে আসছে হানিট্র্যাপের সম্ভাবনা, নড়েচড়ে বসেছে গোয়েন্দা সংস্থা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 January 2026 12:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) হানিট্র্যাপে (Honeytrap) পড়ে ভারতীয় সেনা সংক্রান্ত গোপন তথ্য পাকিস্তানে পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক যুবক। ধৃতের নাম সুনীল (Sunil), বয়স ৩১। তিনি আম্বালা জেলার সাহা থানা (Saha Police Station) এলাকার সবগা গ্রামের (Sabga Village) বাসিন্দা। আম্বালা ক্যান্টনমেন্ট (Ambala Cantonment) বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গত ছয় থেকে সাত মাস ধরে সুনীল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের (Pakistani Handlers) সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিলেন। একটি ভুয়ো মহিলা ফেসবুক প্রোফাইলের (Fake Facebook Profile) মাধ্যমে প্রথমে তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা হয়। ধীরে ধীরে আবেগের ফাঁদে ফেলে, প্রলোভন ও কথিত ব্ল্যাকমেলের (Blackmail) মাধ্যমে তাঁকে সংবেদনশীল তথ্য পাঠাতে বাধ্য করা হয় বলেই অভিযোগ।
তদন্তে জানা গিয়েছে, সুনীল একটি বেসরকারি ঠিকাদারি সংস্থায় (Private Contractor) কাজ করতেন। সেই সূত্রে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল এয়ার ফোর্স স্টেশনে (Air Force Station)। নির্মাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করার কারণে একাধিক সামরিক ইউনিটে (Military Units) তাঁর অবাধ প্রবেশাধিকার ছিল। এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে তিনি সেনা ও বায়ুসেনার (Indian Army, Indian Air Force) গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরে পাঠিয়েছেন বলে পুলিশের অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে খবর, সুনীল সামরিক ইউনিটের অবস্থান (Unit Locations), সেনা চলাচল (Troop Movement) এবং মোতায়েন সংক্রান্ত (Deployment) একাধিক গোপন তথ্য পাকিস্তানি যোগাযোগকারীদের কাছে পাঠিয়েছেন। তাঁর মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট (WhatsApp Chats) ও ভয়েস কলের (Voice Call Records) প্রমাণ। সেই তথ্যের সূত্র ধরেই তদন্ত আরও গভীর করা হচ্ছে।
এদিকে, আর্থিক লেনদেনের দিকটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সুনীলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (Bank Account) পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে কোনও সন্দেহজনক টাকার আদানপ্রদান হয়েছে কি না। তদন্তকারীদের অনুমান, গোপন তথ্যের বিনিময়ে টাকা বা অন্য কোনও সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
আম্বালা ক্রাইম ডিএসপি (Ambala Crime DSP) বীরেন্দ্র কুমার (Virender Kumar) জানিয়েছেন, ধৃতকে চার দিনের পুলিশ হেফাজতে (Police Remand) নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “সে একা কাজ করছিল নাকি এর পিছনে আরও কেউ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেরায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।”
পুলিশের আরও অভিযোগ, এই হানিট্র্যাপের নেপথ্যে সক্রিয় ছিল পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)। প্রথমে ভুয়ো পরিচয়ে বিশ্বাস অর্জন, তার পর ধাপে ধাপে সংবেদনশীল তথ্য আদায়ের ছক—পুরোটাই পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি (Security Agencies) খতিয়ে দেখছে, ঠিক কতটা তথ্য ফাঁস হয়েছে এবং তার প্রভাব কতদূর পর্যন্ত পড়তে পারে, তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না।