ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের হয়েছে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা। ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শেষ আপডেট: 7 February 2026 16:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া হিলস জেলার বেআইনি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Meghalaya illegal coal mine blast) ঘটনায় এখনও নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, শনিবার অর্থাৎ ৭ ফেব্রুয়ারি একাধিক সংস্থাকে নিয়ে ওই এলাকায় ব্যাপক সার্চ ও রেসকিউ অপারেশন (Meghalaya coal mine blast rescue operation) চালানো হচ্ছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ (East Jaintia Hills explosion death)। উদ্ধার হয়েছে তাঁদের দেহ।
বিস্ফোরণটি ঘটে বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি। পূর্ব জয়ন্তিয়া হিলস জেলার উমসনগাট গ্রামের থানগস্কু এলাকার ওই কয়লাখনিটি অবৈধ বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পরপরই প্রশাসনের তরফে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
পুলিশের সন্দেহ, এখনও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তাঁদের খোঁজ চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে একাধিক দফতর ও বিশেষ দলকে কাজে লাগানো হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের হয়েছে সুয়ো মোটো বা স্বতঃপ্রণোদিত মামলা। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita), মাইনস অ্যান্ড মিনারেলস (ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যাক্ট এবং এক্সপ্লোসিভ সাবস্ট্যান্সেস অ্যাক্ট-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন ফর্মে চিরমাং (৩৬) - জলাফেট পোর্দুং গ্রামের বাসিন্দা এবং শামেহি ওয়ার (৪২) - সুতঙ্গা পোহওয়াইলং গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, বেআইনি খনন ও বিস্ফোরক ব্যবহারের সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বেআইনি কয়লা খননের প্রশ্নে রাজ্য সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। তিনি বলেন, এই ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, প্রশাসনকে আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করতে এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, খনন সংক্রান্ত নির্দেশাবলির বাস্তবায়ন তদারকির দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বি.পি. কাটাকেয় থানগস্কু এলাকা পরিদর্শন করেন। সরকারি সূত্রের দাবি, পরিদর্শনের পর তিনি নিশ্চিত করেছেন যে ওই এলাকায় বৃহৎ পরিসরে বেআইনি কয়লা খনন চলছিল।
এই বিস্ফোরণ ফের একবার মেঘালয়ে বেআইনি কয়লা খননের ভয়াবহ বাস্তবতা সামনে আনল। একদিকে মৃত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারে শোকের ছায়া, অন্যদিকে প্রশাসনের নজরদারি ও আইন প্রয়োগ নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে না বলেই মনে করছে প্রশাসন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আহতদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, মেঘালয় সরকারও মৃত প্রত্যেক খনি শ্রমিকের নিকট আত্মীয়দের জন্য ৩ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে।