দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'পাপা ড্রামে আছেন'—এই কথাটিই প্রতিবেশীদের কাছে একটানা বলে চলেছিল ছ'বছরের মেয়েটি। মার্চেন্ট নেভি সৌরভ রাজপুতের মেয়ে কেন এমনটা বলছে আধো আধো গলায়, তা প্রথমে বুঝতে পারেনি কেউ। তবে খেয়াল করে তার কথা শোনার পরে, বিষয়টি সামনে আসে। পরে পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে, সৌরভকে খুন করে, দেহ ১৫ টুকরো করে কুপিয়ে, প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে, সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে রেখেছে তাঁর স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি ও তার প্রেমিক সাহিল শুক্লা।
জানা গেছে, মার্চের ৪ তারিখে সৌরভ রাজপুত মীরাটের বাড়িতে এসেছিলেন মেয়ের ষষ্ঠ জন্মদিন উদযাপন করতে। কিন্তু দুঃসপ্নেও কেউ ভাবেননি, কী অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য। পুলিশের মতে, মুসকান ও তার প্রেমিক সাহিল পরিকল্পিতভাবে সৌরভকে খুন করে। এরপর তাঁর দেহ ১৫ টুকরো করে কেটে, প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে ঢুকিয়ে, তার ওপরে ভিজে সিমেন্ট ঢেলে দেয়, যাতে দেহ পচতে না পারে এবং দুর্গন্ধ না বেরোয়।
সৌরভের মা রেণু দেবী জানান, 'মুসকান আর সাহিল আমার ছেলেকে খুন করে ৪ মার্চ। তারপর ওরা বেড়াতে চলে যায়। বাড়ির মালিক আগেই বলেছিলেন, ঘর খালি করতে হবে সংস্কারের জন্য। তাই ওরা ফিরে আসার পর মালিক বাড়ি খালি করাতে পাঠান শ্রমিকদের। কিন্তু শ্রমিকরা সেই ভারী ড্রামটি তুলতে পারেনি। যখন তারা মুসকানকে জিজ্ঞাসা করে, সে জানায়, ড্রামের মধ্যে পুরোনো জিনিসপত্র আছে।'
কিন্তু শ্রমিকরা যখন ড্রামের ঢাকনা খোলে, তখন ভিতর থেকে এক তীব্র দুর্গন্ধ বেরিয়ে আসে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এরই মধ্যে মুসকান তার বাবা-মায়ের কাছে পালিয়ে যায়।
মুসকানের মা কবিতা রাস্তোগি জানিয়েছেন, মুসকান নিজেই তাদের জানিয়েছিল, যে সে সৌরভকে খুন করেছে। তারা এই কথা শোনার পরপরই পুলিশকে জানিয়ে দেয়।
সৌরভের মা রেণু দেবী অবশ্য দাবি করেন, মুসকানের পরিবার আগেই সব জানত এবং তারা আগাম আইনি পরামর্শ নিয়েই পুলিশে গিয়েছিল। তাঁর দাবি, 'শুধু মুসকান ও সাহিল নয়, মুসকানের পুরো পরিবারকে ফাঁসি দেওয়া উচিত।'
সৌরভের মেয়েকে তার বাবার মৃত্যু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে রেণু দেবী বলেন, 'ও হয়তো কিছু দেখেছিল। ও বলছিল, ওর পাপা ড্রামের মধ্যে আছে। ও তার মানে কিছু না কিছু দেখেছিল, তাই ওকে ওখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।'
পরিবার সূত্রের খবর, ২০১৬ সালে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন সৌরভ ও মুসকান। সংসারে সময় দিতে পারতেন না বলে সৌরভ মার্চেন্ট নেভির চাকরি ছেড়ে দেন বিয়ের পরে। তবে এতে খুশি ছিল না তার পরিবার। পাশাপাশি, মুসকানের সঙ্গেও দাম্পত্যের টানাপড়েন শুরু হয় এবং সৌরভ ও মুসকান নিজেদের বাড়ি ছেড়ে, আলাদা হয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন।
এর পরে ২০১৯ সালে তাদের মেয়ে হয়। সে সময়েই সৌরভ জানতে পারেন যে মুসকানের সঙ্গে তাঁর বন্ধু সাহিলের সম্পর্ক রয়েছে। জানা যায়, সে সময়ে সৌরভ বিবাহবিচ্ছেদের কথা ভাবলেও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পিছিয়ে আসেন। তবে এসব থেকে দূরে থাকতেই হোক বা আর্থিক সুরাহা করার কথা ভেবেই হোক, ২০২৩ সালে আবার মেরিনের চাকরিতে ফিরে যান। এই সময়েই মুসকান ও সাহিলের সম্পর্ক আরও গভীর হয়, যা শেষ পর্যন্ত এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
মুসকানের মা-বাবা জানিয়েছেন, মুসকান ও সাহিল দুজনেই মাদকাসক্ত ছিল এবং তারা জানত যে সৌরভ থাকলে তাদের এসব বন্ধ করতে হবে। তাই তারা সৌরভকে খুন করে। মুসকানের মা কবিতা রাস্তোগির কথায়, 'আমাদের মেয়েই ছিল আসল সমস্যার মূলে। আমাদের মেয়েই সৌরভকে তার পরিবার থেকে আলাদা করেছিল, আর এখন খুনও করল। ওর জন্য আমাদের কোনও কষ্ট নেই। ওর ফাঁসি চাই আমরা।'