
শেষ আপডেট: 19 December 2023 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের আইন এখনও পর্যন্ত বৈবাহিক ধর্ষণকে মান্যতা দেয়নি। স্বামীর কাছে যৌন নির্যাতন এখনও ভারতে খাতায় কলমে 'অপরাধ' নয়। এই সংক্রান্ত হাজার মামলা এখনও ঝুলে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু একটি মামলার প্রেক্ষিতে গুজরাত হাইকোর্ট জানাল, ধর্ষণ যেই করুক, তা ধর্ষণই, স্বামী করলেও একই! আদালত আরও জানিয়েছে, মহিলাদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে যে অখণ্ড নীরবতা রয়েছে, তা ভাঙা প্রয়োজন।
একটি নির্দিষ্ট মামলার প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করেছেন গুজরাত হাইকোর্টের বিচারপতি দিব্যেশ যোশী। এই মামলায় এক মহিলার বিরুদ্ধে তাঁর পুত্রবধূকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া অভিযুক্ত মহিলার স্বামী এবং ছেলের হাতে পুত্রবধূ নিয়মিত ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া তাঁরা সকলে নিলে নির্যাতিতার নগ্ন ছবি পর্ন সাইটে পোস্ট করে সেখান থেকে টাকা রোজগার করত। এর পরেই অভিযুক্ত মহিলার জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ভারতে মহিলাদের বিরুদ্ধে হিংসার প্রকৃত ঘটনাগুলি সম্ভবত নথিবদ্ধ হওয়া ঘটনার থেকে অনেক বেশি এবং মহিলারা এমন পরিবেশে থেকে যেতে বাধ্য হন, যেখানে তাঁরা নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন এবং হিংসার শিকার হতে হয় তাঁদের।
আদালত আরও জানিয়েছে, মহিলাদের সারাক্ষণ নজরে রাখা, মৌখিক এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করার ঘটনাকে অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিকভাবে 'ছোট অপরাধ' বলে দেগে দেওয়া হয়, যার ফলে এই অপরাধগুলির গুরুত্ব কমে যায় এবং তা 'স্বাভাবিক' হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, এমন অপরাধকে সিনেমার মতো বিভিন্ন মাধ্যমে 'রোম্যান্টিক' হিসেবে দেখানো হয় যা অত্যন্ত দুৰ্ভাগ্যজনক।
যে মনোভাব থেকে যৌন নির্যাতনের ঘটনাকে ছেলেদের স্বাভাবিক কাজ হিসেবে লঘু করে দেখানো হয়, তার জন্য নির্যাতিতাদের মনে ঘটনার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রয়ে যায় বলে দাবি করেছে আদালত। এই মামলার রায়ে ব্যক্তিগতভাবে বৈবাহিক ধর্ষণকে ধর্ষণ বলেই মেনে নিয়েছেন বিচারপতি যোশী। "অধিকাংশ ক্ষেত্রে (একজন মহিলার উপর নির্যাতন বা ধর্ষণ) স্বাভাবিক হল যে পুরুষটি যদি স্বামী হয়, তাহলে সে অন্য পুরুষের মতো একই কাজ করলেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু আমার মনে হয় সেটা ভুল। একজন পুরুষ পুরুষই, ধর্ষণও ধর্ষণই, সেটা যদি স্বামী স্ত্রীর উপর করে থাকে তাহলেও তা বদলাবে না," জানিয়েছেন বিচারপতি।
আদালত বলেছে, সংবিধান একজন নারীকে একজন পুরুষের সমান বলেই বিবেচনা করে এবং বিবাহকে সমতুল্যতার একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে। যৌন হিংসার ঘটনার ক্ষেত্রে নীরবতা ভাঙা প্রয়োজন, এবং সেক্ষেত্রে মহিলাদের থেকেও পুরুষদের বেশি এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করে আদালত।
বৈবাহিক ধর্ষণ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রথম বিশ্বের একাধিক দেশের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন বিচারপতি। তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকার ৫০টি রাজ্য, তিনটি অস্ট্রেলিয়ান রাজ্য, নিউজিল্যান্ড, কানাডা, ইজরায়েল, ফ্রান্স, সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সোভিয়েত ইউনিয়ন, পোল্যান্ড এবং চেকোস্লোভাকিয়া এবং আরও কয়েকটি দেশে বৈবাহিক ধর্ষণ অবৈধ। এমনকী, যুক্তরাজ্যেও স্বামীদের 'বিশেষ' অধিকার বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত।