আরও একবার স্পষ্ট হল — ছত্তীসগঢ়, অন্ধ্রপ্রদেশ মিলিয়ে যাকে ‘রেড করিডর’ বলা হয়, সেই অঞ্চল জুড়ে মাওবাদীদের ওপর চাপ বাড়ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 July 2025 19:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছত্তীসগড়ের (Chhattisgarh) সুকমায় (Sukma) নিরাপত্তা বাহিনীর শিবির উড়িয়ে দেওয়ার ছক কষেছিল নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-র সশস্ত্র শাখা পিএলজিএ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে চার মাওবাদীকে (Maoist) গ্রেফতার করল সিআরপিএফ (CRPF) ও রাজ্য পুলিশ (State Police)।
সূত্র মারফৎ জানা গেছে, শুক্রবার সুকমার জাগারগুন্ডা থানা এলাকার বোদাঙ্গুডা গ্রামের অদূরে অভিযান চালানো হয়। ধৃতদের নাম তমু জোগা (২৫), পুনেম বুধরা (২৪), মাদকাম ভীমা (২৩) এবং মিডিয়াম আয়তু (২৪)। ধৃতদের কাছ থেকে একটি টিফিন বাক্সে বিস্ফোরক ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, গত ২৯ জুন সুকমার বেদরেতে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি শিবির লক্ষ্য করে বিস্ফোরক পুঁতে হামলার চেষ্টা করেছিল ধৃতরা। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারিতে সেই পরিকল্পনা বানচাল হয়ে যায়।
এরই মাঝে অন্ধ্র পুলিশের আর একটি অভিযানে বড় সাফল্য। ২৩ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে অলুরি সীতারামরাজু জেলার জঙ্গলে তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে তিনটি মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডার। সূত্র মারফত পাওয়া খবরের ভিত্তিতে উদ্ধার হয়েছে মোট ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র। যার মধ্যে রয়েছে একটি একে-৪৭, দুটি বিগ এল (BGL), পাঁচটি এসএলআর, দুটি ইনসাস এবং পাঁচটি .৩০৩ রাইফেল।
পাশাপাশি মিলেছে ৬০৬টি গুলি, ১৬টি বিগ এল শেল, ৩৭ কেজি কারডেক্স তার, ডিটোনেটর, ওয়াকি-টকি-সহ নানা সামরিক সরঞ্জাম। গোটা অভিযানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুলিশ, গোয়েন্দা ও অপারেশন বিভাগের শীর্ষ কর্তারা।
এই দুই ঘটনার মধ্যে দিয়ে আরও একবার স্পষ্ট হল — ছত্তীসগঢ়, অন্ধ্রপ্রদেশ মিলিয়ে যাকে ‘রেড করিডর’ বলা হয়, সেই অঞ্চল জুড়ে মাওবাদীদের ওপর চাপ বাড়ছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে ক্রমশ ভেঙে পড়ছে মাওবাদী সংগঠনের কাঠামো।
মাওবাদী কার্যকলাপ দমনে আলাদা করে জোরদার পদক্ষেপ নিয়েছে ছত্তীসগড় প্রশাসন। মাওবাদী নেতা-কর্মীদের মূল স্রোতে ফেরাতে রাজ্য পুলিশ ‘নিয়া নার নিয়া পুলিশ’ (আমাদের গ্রাম, আমাদের পুলিশ) নামক সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছে। পাশাপাশি, ২০২০ সাল থেকে চলছে ‘লোন ভারাতু’ পুনর্বাসন প্রকল্প। এই দুই কর্মসূচির পাশাপাশি লাগাতার যৌথবাহিনীর অভিযানে ইতিমধ্যেই আত্মসমর্পণ করেছে হাজারের বেশি মাওবাদী। নিহত হয়েছে সংগঠনের বহু শীর্ষ নেতা-নেত্রী।
সুকমা-সহ গোটা বস্তার অঞ্চলে চলা এই নিরাপত্তা অভিযানের জেরে লাগাতার চাপে রয়েছে মাওবাদীরা। তবু নতুন করে হামলার ছক কষছে তারা। পুলিশের দাবি, এই ধরনের নাশকতা রুখতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।