সব কিছু মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসনের পর মণিপুরে আগের পরিস্থিতিতে লাগাম টানা গেছে বলেই মনে করছেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।

শেষ আপডেট: 29 June 2025 19:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পর থেকেই রাজ্যে হিংসা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এবং মাদকবিরোধী অভিযানে সাফল্যের হার বেড়েছে বলে জানালেন সরকারি আধিকারিকরা। চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় শাসন শুরু হয় মণিপুরে। এরপর থেকে রাজ্যজুড়ে নতুন করে আগুন লাগা, ভাঙচুর বা বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি, যা এর আগে প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি শাসন চালুর আগে (মে ৩, ২০২৩ পর্যন্ত) মণিপুরে হিংসার বলি হয়েছিলেন ২৬০ জন। কিন্তু তার পর থেকে এই চার মাসে মাত্র একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তাও একটি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে।একইভাবে গোটা উত্তেজনার সময়কালে ১,৭৭৬ জন আহত হয়েছিলেন, কিন্তু গত চার মাসে নতুন করে আহতের সংখ্যা মাত্র ২৯।
এছাড়া, ফেব্রুয়ারি থেকে জুন ২৬ পর্যন্ত একটিও আগুন লাগানো বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি, যেখানে আগের সময়ে এই ধরনের ১৭ হাজারেরও বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল।
গত বছর পুলিশ আর্মারিগুলো থেকে প্রায় ৬,০২০টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেগুলোর একটি বড় অংশ উদ্ধার বা সারেন্ডার হয়েছে। গত চার মাসে ২,৩৯০টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই লুট হওয়া অস্ত্র।
এছাড়া অবৈধ ৬৩টি বাঙ্কার ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা গত বছর মে থেকে ভেঙে ফেলা মোট বাঙ্কারের সংখ্যা ৫৪৮-তে পৌঁছেছে।
রাষ্ট্রপতি শাসনের পর মাদকদ্রব্য দমন অভিযানেও দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। ৮৪ জনকে NDPS আইনের আওতায় গ্রেফতার করা হয়েছে। মণিপুর পুলিশ, অসম রাইফেলস ও অন্যান্য আধাসেনা বাহিনীর সম্মিলিত অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ২৪.৪ কেজি হেরোইন, ২৫.৭ কেজি ব্রাউন সুগার, ৩১.৮ কেজি আফিম, ৩৭৯ কেজিরও বেশি গাঁজা।
এই পদক্ষেপগুলো মণিপুরে মাদকের আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
হিংসার মূল উস্কানিদাতা হিসেবে পরিচিত মেইতেই গোষ্ঠীর সংগঠন ‘আরাম্বাই তেংগোল’-এর বিরুদ্ধে চলা অভিযানে সাময়িক শান্তি ফিরেছে অনেক এলাকায়।
সম্প্রতি গ্রেফতার করা হয়েছে বরখাস্ত হওয়া এক পুলিশ হেড কনস্টেবল ও সংগঠনের শীর্ষ নেতা আসেম কানন সিং ও তাঁর ৪ সহযোগীকে। তিনি অতীতে মণিপুর পুলিশের অতিরিক্ত সুপারিনটেনডেন্টের ওপর হামলার ঘটনায়ও অভিযুক্ত ছিলেন।
গ্রেফতারের পর সংগঠনটি ঘোষণা করেছে যে, তারা আর কোনও ভাবেই হিংসার সঙ্গে যুক্ত নয়।
যদিও হিংসার ঘটনা কমেছে, কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী — যেমন: ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (UNLF), পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA), কাংলেই ইয়াওল কানবা লাপ (KYKL), পিপলস রেভ্যুলেশনারি পার্ট অফ কাংলেইপাক (PREPAK) এখন চাঁদাবাজি এবং পারিবারিক বা সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ মীমাংসার নামে সমঝোতার ব্যবসা চালাচ্ছে। সম্প্রতি পুলিশ এমন একটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছে।
সব কিছু মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসনের পর মণিপুরে আগের জ্বলন্ত পরিস্থিতিতে লাগাম টানা গেছে বলেই মনে করছেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।