বিবাহবিচ্ছেদের পর মানত পূরণে ৯ কিলোমিটার দণ্ডী কেটে মন্দিরে পৌঁছলেন উত্তরপ্রদেশের যোগেশ। বস্তি জেলার এই অদ্ভুত ঘটনাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে তুমুল চর্চা।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 31 March 2026 19:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিবাহবিচ্ছেদের খুশিতে ৯ কিলোমিটার দণ্ডী কাটলেন (Dandavat Yatra)! উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) বস্তি জেলায় এক অদ্ভুত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিজের বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে মুক্তি পাওয়ার কৃতজ্ঞতা জানাতেই যোগেশ (Yogesh) নামে এক ব্যক্তি এই বিরাট পথ অতিক্রম করেছেন। গ্রাম থেকে সিদ্ধ পীঠ বৈরওয়া সময় মাতা মন্দির পর্যন্ত তাঁর এই যাত্রার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (Viral Video)।
জানা গেছে, পেশায় দিল্লির ইন্টিরিয়র ডিজাইনার (POP কাজ) যোগেশ ২০২২ সালে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে শুরু হয় প্রবল অশান্তি। যোগেশের দাবি, অল্প আয় এবং কাজের অনিয়মিত সময়ের কারণে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রায়ই বিবাদ হতো। এই মানসিক টানাপোড়েন থেকে মুক্তি পেতে তিনি বৈরওয়া সময় মাতা মন্দিরে মানত করেছিলেন যে, যদি তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়, তবে তিনি দণ্ডী কেটে দেবীকে ধন্যবাদ জানাবেন। ২০২৫ সালে আইনিভাবে বিচ্ছেদ সম্পন্ন হতেই তিনি নিজের সেই মানত পূরণ করার সিদ্ধান্ত নেন।
উত্তরপ্রদেশের নরখোরিয়া গ্রামের বাসিন্দা যোগেশকে এই কাজের জন্য প্রশাসনের বিশেষ অনুমতি নিতে হয়েছে। কারণ, ওই জেলায় তখন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৫ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা) জারি ছিল। ভানপুরের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট হিমাংশু কুমার সমস্ত দিক বিচার করে তাঁকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও দণ্ডী কাটার অনুমতি দেন।
At a time when divorce parties are emerging as a new hot invite, a 25-year-old man from Basti celebrated the personal milestone with a unique thanksgiving for the local deity.
Making the most of the auspicious occasion of Navratri, the newly-divorced man undertook a 9-km… pic.twitter.com/SZlQqvRMyn— Hate Detector 🔍 (@HateDetectors) March 30, 2026
শনিবার ভোরে কোনও খাবার বা জল না খেয়েই যাত্রা শুরু করেন যোগেশ। পুরো ৯ কিলোমিটার পথ তিনি মাটিতে শুয়ে দণ্ডী কাটতে কাটতে এগিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাবা-মা এবং গ্রামবাসী, যারা পথজুড়ে তাঁকে উৎসাহ জোগাতে ভক্তি স্লোগান দিচ্ছিলেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রান্ত করার পর যখন তিনি সন্ধ্যায় মন্দিরে পৌঁছান, তখন তাঁর হাঁটুতে আঘাতের চিহ্ন এবং শরীরে চরম ক্লান্তির ছাপ ছিল। তবে মানত পূরণ করতে পেরে মানসিকভাবে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানান।
নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে দু'জন পুলিশকর্মী তাঁর সঙ্গে মোতায়েন করা হয়েছিল। এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনা ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। নেটিজেনদের একাংশ একে ব্যক্তিগত মুক্তি ও মানসিক শান্তির প্রকাশ হিসেবে দেখলেও, বাকি অনেকেই বিবাহবিচ্ছেদের মতো একটি বিষয়কে এভাবে ঘটা করে উদযাপন করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।