বিচারপতি বিভি নাগারত্ন এবং সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চে এই হেনস্থা মামলার শুনানি হয়। সুপ্রিম কোর্ট বলে, 'এই ধরনের অপরাধের জন্য কোনও ছাড় নেই। নির্যাতিতা নাবালিকা নিজে গোটা ঘটনা জানিয়েছে।'
_0.jpg.webp)
গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 29 May 2025 18:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিজের সাত বছরের মেয়েকেই যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন চিকিৎসক। তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court Denies Bail In Rape Case)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, 'মদ খেয়ে মানুষ পশু হয়ে যায়।'
বিচারপতি বিভি নাগারত্ন এবং সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চে এই হেনস্থা মামলার শুনানি হয়। সুপ্রিম কোর্ট বলে, 'এই ধরনের অপরাধের জন্য কোনও ছাড় নেই। নির্যাতিতা নাবালিকা নিজে গোটা ঘটনা জানিয়েছে।'
অভিযুক্তের উদ্দেশে শীর্ষ আদালত বলে, 'একজন বাবা নিজের মেয়ের সঙ্গে এই কাজ করতে পারে না। কেন মেয়ে তাঁর বাবাকে ভয় পাবে? আতঙ্কিত হয়ে থাকবে? মদ খেয়ে মানুষ পশুতে পরিণত হয় (Man Becomes Beast After Drinking)। আমাদের বলা উচিত নয়, তবে আমরাই সবথেকে উদার বেঞ্চ। সেই আমরাই জামিন দিচ্ছি না। তার মানে ভেবে দেখুন বিষয়টা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।'
মায়ের সঙ্গে বারাণসীতে থাকত নির্যাতিতা। অভিযুক্ত চিকিৎসক কর্মসূত্রে উত্তরাখণ্ডের হালদওয়ানিতে থাকতেন। সেখানে একটি নার্সিং হোমও রয়েছে তাঁর। ২০১৮ সালের ২৩ মার্চ চিকিৎসক ওই চিকিৎসক তাঁর মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। ৩০ তারিখই স্ত্রীকে ফোন করে মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।
মায়ের কাছে ফিরলে গোটা ঘটনা খুলে বলে নাবালিকা। এরপরই পুলিশের দ্বারস্থ হন চিকিৎসকের স্ত্রী। স্বামীর বিরুদ্ধে মেয়েকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেন তিনি। তদন্তে উঠে আসে, নেশার ঘোরেই এই কাজ করেছিলেন অভিযুক্ত।
অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করা হয়। নিম্ন আদালত চিকিৎসককে দোষী সাব্যস্ত করে। এই মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। তবে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, 'নিম্ন আদালতের রায়ের বিরোধিতা করবেন না তাঁরা'।
বুধবার ধর্ষণের মামলায় ২৩ বছরের অভিযুক্ত ইনফ্লুয়েন্সারকে জামিন দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। চল্লিশ বছরের এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল যুবকের বিরুদ্ধে। শীর্ষ আদালতের মন্তব্য, 'তালি কখনও এক হাতে বাজে না, নির্যাতিতা তো শিশু নন'। জানা যায়, গত ন'মাস ধরে জেলবন্দি ছিলেন অভিযুক্ত। এত দিন পরও তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন না হওয়ায় অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার এই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চে।
সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) পর্যবেক্ষণ, অভিযোগকারী মহিলা স্বেচ্ছায় ওই যুবকের সঙ্গে জম্মুতে ঘুরতে গিয়েছিলেন এবং একসঙ্গে থেকেছেন। তাহলে কীভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রুজু করা হল? কোন ধারায় মামলা হয়েছে? আদালত আরও বলে, 'তালি এক হাতে বাজে না! অভিযোগকারী শিশু নন। তাঁর বয়স ৪০ বছর। তিনি এর আগেও একাধিকবার ঘুরতে গিয়েছেন। অথচ তাঁর পরিবার এবিষয়ে কিছুই জানে না।'
ইনফ্লুয়েন্সার যুবকের গ্রেফতারি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে পুলিশের (Police) ভূমিকাও। বিচারপতি বলেন, '৯ মাস পরও অভিযুক্তর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন না হওয়ায় তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন (Interim Bail) দেওয়া উচিত।' শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন যুবক। জামিনে মুক্ত থাকাকালীন অভিযোগকারীর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না তিনি।