সংখ্যাতত্ত্ব, জ্যোতিষ(astrologer) আর ‘আধ্যাত্মিক’ পরামর্শের আড়ালে গড়ে উঠেছিল কোটি টাকার সাম্রাজ্য। সেই সাম্রাজ্যের কর্ণধার ‘ক্যাপ্টেন’ (Captain) অশোক খারাত (Ashok Kharat) এখন ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার। মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে গ্রেফতার হওয়া এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে, যার জেরে রাজ্য জুড়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

শেষ আপডেট: 20 March 2026 20:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংখ্যাতত্ত্ব, জ্যোতিষ(astrologer) আর ‘আধ্যাত্মিক’ পরামর্শের আড়ালে গড়ে উঠেছিল কোটি টাকার সাম্রাজ্য। সেই সাম্রাজ্যের কর্ণধার ‘ক্যাপ্টেন’ (Captain) অশোক খারাত (Ashok Kharat) এখন ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার। মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে গ্রেফতার হওয়া এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে, যার জেরে রাজ্য জুড়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
৬৭ বছরের খারাত একসময় মার্চেন্ট নেভির অফিসার ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি ‘নিউমারোলজিস্ট’ বা সংখ্যাতত্ত্ববিদ (numerologist) হিসেবে নিজের নতুন পরিচয় তৈরি করেন। নাসিকের মিরগাঁওয়ে ‘শ্রী শিবনিকা সংস্থান ট্রাস্ট’ গড়ে তুলে তিনি একটি মন্দিরকেন্দ্রিক আধ্যাত্মিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। সেই মন্দিরই ধীরে ধীরে তাঁর কার্যকলাপের মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরে খারাত বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠেন। জমি, ফার্মহাউস, আবাসন—সব মিলিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে অনুমান করা হচ্ছে। ধনী ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত পরামর্শের জন্য তিনি একেকবারে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে এই ‘আধ্যাত্মিক সাম্রাজ্য’-এর আড়ালেই চলছিল গুরুতর অপরাধ—এমনই অভিযোগ উঠেছে। ৩৫ বছরের এক মহিলা অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামীর প্রাণ সংশয়ের ভুয়ো আশঙ্কা দেখিয়ে খারাত তাঁকে নিজের অফিসে ডাকতেন। সেখানে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে পানীয় খাইয়ে বারবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই নির্যাতন চলেছে বলে দাবি।
শুধু একজন নন, আরও একাধিক মহিলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছে পুলিশ। তদন্তে ইতিমধ্যেই একটি পেনড্রাইভ থেকে ৫৮টি ভিডিও উদ্ধার হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটিতে মহিলাদের যৌন নির্যাতনের দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
এই ঘটনায় তদন্তের জন্য মহারাষ্ট্র সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। পুণের রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের কমান্ড্যান্ট তেজস্বী সাতপুতে এই তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। খারাতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী ধর্ষণসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে, পাশাপাশি ব্ল্যাক ম্যাজিক বিরোধী আইনের অধীনেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে, খারাতের সঙ্গে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে থেকে শুরু করে রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রূপালী চাকনকর—অনেকের নামই উঠে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চাকনকর খারাতের পা ধুচ্ছেন এবং তাঁকে ‘গুরু’ হিসেবে সম্মান করছেন।
এই ঘটনার পর থেকেই বিরোধীরা সরব হয়েছে। চাকনকরের পদত্যাগের দাবি তুলেছে শিবসেনা (ইউবিটি)। অভিযোগ, খারাতের প্রভাবে তিনি অদ্ভুত আচরণও করেছেন, এমনকি নিজের আঙুল কেটেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ‘আধ্যাত্মিক গুরু’ পরিচয়ের আড়ালে কীভাবে এক ব্যক্তি বিপুল অর্থ, প্রভাব এবং অভিযোগের জাল বিস্তার করেছিলেন, তা এখন তদন্তের কেন্দ্রে। এই ঘটনায় শুধু অপরাধ নয়, সমাজে অন্ধবিশ্বাস এবং প্রভাবশালী যোগের প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।