রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক এই গানের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 30 October 2025 22:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর (Vande Mataram) পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ উদ্যোগ নিল মহারাষ্ট্র সরকার (Maharashtra)। রাজ্যের সমস্ত স্কুলে ৩১ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন গাওয়া হবে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ। এতদিন পর্যন্ত স্কুলগুলিতে কেবল প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়া হত।
রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক এই গানের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে স্কুলগুলিকে ‘বন্দে মাতরম’-এর ইতিহাস ও তাৎপর্য নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করতেও বলা হয়েছে।
থানের রাজমাতা জিজাবাই ট্রাস্টের তরফে রাধা ভিড়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী পঙ্কজ ভোয়ারকে একটি চিঠি লিখে এই উদ্যোগের প্রস্তাব দেন। তাঁর অনুরোধেই শিক্ষা দফতর এই নির্দেশ জারি করেছে বলে সূত্রের খবর।
তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা আবু আজমি। তাঁর বক্তব্য, “বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে কারও ওপর জোরজবরদস্তি করা ঠিক নয়। ইসলাম মাকে সম্মান করতে শেখায়, কিন্তু তাঁর সামনে মাথা নত করার অনুমতি দেয় না।” তিনি নাম না করে বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন— “তোমরা উন্নয়ন করো না, শুধু হিন্দু-মুসলমান রাজনীতি করেই ভোট জেতো। যেমন বাঘ একবার রক্তের স্বাদ পেলে খুঁজতে থাকে, তেমনি তোমরাও নতুন নতুন ইস্যু খুঁজে বের করো যাতে মুসলিমদের উত্তেজিত করা যায়।”
মোদীর আহ্বান: বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর স্মরণীয় করে তুলুন
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘মন কি বাত’-এ বলেন, “‘বন্দে মাতরম’ ভারতের শক্তি, ঐক্য আর সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি। ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমরা সবাই মিলে এর মূল্যবোধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিই।” তিনি আরও জানান, সারা দেশে এই উপলক্ষে নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।
মোদীর কথায়, ‘‘কঠিন সময়ে ভারতের ১৪০ কোটি ভারতবাসীকে একত্রিত করার ক্ষমতা রাখে এই বন্দে মাতরম ধ্বনিটি।’’ তার পরেই স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরম’-এর রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্রের অবদানের কথা তুলে ধরেন মোদী। তিনি মনে করেন, ব্রিটিশ সরকারের শাসনকালে দুর্বল হয়ে পড়া ভারতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছিল ‘বন্দে মাতরম’।
‘বন্দে মাতরম’ প্রথম লেখা হয় ব্যাঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আনন্দমঠ উপন্যাসে, আর গানটি প্রথম গেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯৬ সালে।