
জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মাতৃবিয়োগ। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 15 May 2024 14:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের মধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মা মাধবীরাজে সিন্ধিয়া। ৭০ বছর বয়সি মাধবীরাজে প্রয়াত কংগ্রেস নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মাধবরাও সিন্ধিয়ার পত্নী ছিলেন। গত তিনমাস ধরে অসুস্থ ছিলেন মাধবীরাজে। দিল্লি এইমসে ভর্তি ছিলেন।
হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা ২৮ মিনিটে হাসপাতালে প্রয়াত হন সিন্ধিয়া রাজপরিবারের প্রবীণ সদস্য তথা রানির মর্যাদাপ্রাপ্ত মাধবী। একজন জনসেবক হিসেবে তাঁর সমধিক পরিচিতি ছিল। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বহু দাতব্য চালাতেন সিন্ধিয়া গৃহিণী। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে আগামিকাল, বৃহস্পতিবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে পরিবারের তরফে বলা হয়েছে।
মাধবী আদতে নেপালের বাসিন্দা। তাঁকে নেপালের রাজকন্যা বলা হত। বিয়ের আগে নাম ছিল কিরণ রাজলক্ষ্মী। তাঁর দাদু শামশোর জং বাহাদুর রানা ছিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। ১৯৬৬ সালে কংগ্রেস নেতা তথা মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র রাজ পরিবারের যুবরাজ মাধব রাও সিন্ধিয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
বলা হয়, মাধবরাও একটি ছবি দেখে মাধবীকে পছন্দ করেছিলেন। রাজপুত্রের পছন্দ জানার পর খোঁজ খবর করে মাধবীর সন্ধান পাওয়া যায়। মাধব রাওয়ের খুব ইচ্ছা ছিল বিয়ের আগেই মাধবীকে চাক্ষুষ করা। কিন্তু রাজপরিবারের রক্ষণশীল নিয়মনকানুন তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
মাধব রাও ও মাধবীর বিয়ের সময় গোয়ালিয়র প্রাসাদের শেষ কথা ছিলেন রাজমাতা বিজয় রাজে সিন্ধিয়া। মাধব রাওয়ের মা বিজয়রাজে অনেক দিন ধরেই জনসংঘ এবং হিন্দু মহাসভার ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ১৯৮০-তে বিজেপি তৈরির শুরু থেকে তিনি সেই দলে যুক্ত হন। প্রথমেই দলের সর্ব ভারতীয় সহ-সভাপতি হয়েছিলেন। তার আগে ছিলেন জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। আরও আগে দু’বার কংগ্রেসের টিকিটে লোকসভার সদস্য হন। স্বাধীনতার পর দেশে যে ক’টি রাজ পরিবার সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিল গোয়ালিয়রের সিন্ধিয়া পরিবার সেগুলির অন্যতম।
ষাটের দশকের শেষের দিকে কংগ্রেসের সঙ্গ ছেড়ে বিজয় রায়ে জনসংঘের সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত হয়ে যান। আর এই ব্যাপারে তাঁর প্রেরণা ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। গোয়ালিয়র প্রাসাদ ও দুর্গ থেকে ঢিল ছোড়া দূরে বাজপেয়ীর পৈত্রিক বাড়ি ও জন্মস্থান। শুধু বিজেপিতে যুক্ত হওয়াই নয়, বিজয় রাজে ছিলেন উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের একজন। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর বলেছিলেন, ‘আর কিছু চাওয়ার নেই। স্বপ্ন পূর্ণ হয়েছে। এবার নিশ্চিন্তে মরতে পারি।’
শাশুড়ি তথা রাজমাতা বিজয় রাজের এই রাজনীতির ঘোরতর বিরোধী ছিলেন রাজবধূ মাধবী। মা বিজয় রাজে চাইতেন ছেলে মাধব রাও তাঁর পথ অনুসরণ করে বিজেপির হাত ধরুন। শাশুড়ির ইচ্ছায় বাধা হয়ে দাঁড়ান পুত্রবধূ। ফলে মায়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে মাধব রাওয়ের। প্রাসাদের মধ্যেই আলাদা হয়ে যায় হাঁড়ি। যদিও বিজয় রাজের দুই মেয়ে বসুন্ধরা এবং যশোধরা মা’কে অনুসরণ করে বিজেপিতে যোগ দেন। যশোধরা আগের বার মধ্যপ্রদেশে বিজেপি সরকারের শিল্পমন্ত্রী ছিলেন। অসুস্থতার কারণে এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
মাধব রাও বিমান দূর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর তরুণ পুত্র জ্যোতিরাদিত্যের সঙ্গেই ছিলেন মাধবী। স্বামীর মতো ছেলেকেও বিজেপির দিকে ঝুঁকতে দেননি দীর্ঘদিন। শেষে ২০১৯-এ অনুগামীদের নিয়ে কংগ্রেসে যোগ দেন জ্যোতিরাদিত্য। পুত্রের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি মাধবী। আসলে স্বামীর অকাল মৃতুর পর নিজেকে প্রাসাদ বন্দি করে নিয়েছিলেন তিনি। জানা গিয়েছে দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। জ্যোতিরাদিত্য মা’কে দিল্লি নিয়ে গিয়ে এইমসে ভর্তি করেছিলেন।