
আনন্দ মাহিন্দ্রা ও অনুরাধা মাহিন্দ্রা।
শেষ আপডেট: 12 January 2025 16:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এল অ্যান্ড টি সংস্থার চেয়ারম্যান এসএন সুব্রহ্মণ্যম সম্প্রতি নিদান দিয়েছেন সপ্তাহে ৯০ ঘণ্টা কাজ করার। সেকথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, 'রবিবারও কাজ করা উচিত, কাঁহাতক আর বৌয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বসে থাকবেন?' এই নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ার। এমনই সময়ে কাজের মান এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যের গুরুত্ব নিয়ে সম্পূর্ণ অন্য কথা বললেন মাহিন্দ্রা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধান আনন্দ মাহিন্দ্রা (Anand Mahindra)। বললেন, 'আমি আমার স্ত্রীকে খুব ভালবাসি এবং ওঁর সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করি।' তাঁর বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসিত হয়েছে। স্ত্রী অনুরাধা মহিন্দ্রাকে নিয়ে করা মন্তব্য আরও বেশি ভাল লেগেছে সকলের।
এক সাক্ষাৎকারে আনন্দ মহিন্দ্রা জানান, কাজের মান বেশি সময় ধরে কাজের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, 'কত ঘণ্টা কাজ করছি, তার চেয়ে বেশি জরুরি আমি কতটা মানসম্পন্ন কাজ করছি।'
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন এল অ্যান্ড টি-র চেয়ারম্যান এসএন সুব্রহ্মণ্যম বা ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণ মূর্তির মতো ব্যক্তিত্বরা কাজের সময়সীমা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। নারায়ণ মূর্তি বলেছিলেন, ভারতের উন্নয়নের জন্য তরুণ প্রজন্মকে সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। সুব্রহ্মণ্যম আরও একধাপ এগিয়ে সপ্তাহে ৯০ ঘণ্টা কাজ করার কথা বলেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে, আনন্দ মাহিন্দ্রার বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন। তিনি বলেন, 'আমি একাকীত্বে ভুগি না। আমি আমার স্ত্রীকে খুব ভালবাসি এবং ওঁর সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করি।' ওই সাক্ষাৎকারে আনন্দ মাহিন্দ্রার সোশ্যাল মিডিয়া সক্রিয়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমি এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট খুলেছি কারণ এটি দারুণ একটি মাধ্যম। এই প্ল্যাটফর্মে আমি এক কোটি ১০ লক্ষ মানুষের মতামত জানতে পারি।'
বর্তমানে, যখন কাজের সময়সীমা বাড়ানোর পক্ষে মতামত দেওয়া হচ্ছে, তখন আনন্দ মহিন্দ্রার বার্তা মানুষের কাছে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিয়েছে। কাজের ভারসাম্য বজায় রেখে জীবনকে উপভোগ করার গুরুত্বই প্রাধান্য পেয়েছে তাঁর কথায়।
এই মন্তব্য ঘিরে সাধারণ মানুষ থেকে সেলিব্রিটি— সকলেই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। ইনফোসিস এবং এল অ্যান্ড টি কর্তাদের বক্তব্যের বিপরীতে তাঁর এই অবস্থান মানুষকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। আনন্দ মাহিন্দ্রা ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী এক ব্যক্তিত্ব এবং এক্স-এ তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৪ লক্ষ। তাঁর বক্তব্য শুধু কাজের ক্ষেত্রে নয়, জীবনের মানসিক এবং আবেগগত দিক নিয়েও নতুন বার্তা দিয়েছে। বুঝিয়েছে, কাজের মান মাথায় রেখে পরিবার এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখাই প্রকৃত সাফল্যের চাবিকাঠি।