
শেষ আপডেট: 1 November 2024 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শব্দ বাজির তাণ্ডবে প্রাণ ওষ্ঠাগত রাজধানী দিল্লির। বৃহস্পতিবার কার্যত জেগে কাটাটে হয়েছে রাজধানীর বহু মানুষকে। আদালত এবং প্রশাসনের যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে দেদার শব্দ বাজির পাশাপাশি প্রবল দূষণ সৃষ্টিকারী অন্যান্য বাজিও ফাটানো হয়। এই ব্যাপারে কলকাতা, দিল্লি এবং দেশের অন্য বড় শহরগুলির মধ্যে তেমন একটা ফারাক ছিস না। বেপরোয়া নাগরিকেরার কেই শব্দ ও বাতাসের দূষণবিধির তোয়াক্কা করেনি। কালীপুজোর রাতে বাজি থেকে আগুন লেগে দিল্লিতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম ১২জন। তাঁদের বার্ন ইউনিটে ভর্তি রাখা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালেও বহু মানুষ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।
দিল্লি দমকল বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধার পর থেকে রাত পর্যন্ত ১৬৮টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা মোকাবিলা করতে হয়েছে তাদের। আগুন লাগার ঘটনা জানিয়ে ফোন আসে ৩২০টি। তাদের বক্তব্য, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এতগুলি আগুন লাগার ঘটনা নজিরবিহীন। পাশাপাশি দূষণের চাদরে ঢাকা পড়ে আছে দিল্লির পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ, নয়ডা, কানপুর এবং পাঞ্জাব ও হরিয়ানার বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
রাজধানী পুলিশের বক্তব্য, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫’টার পর থেকেই পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ফোন বাজতে থাকে। কোথাও শব্দ তো কোথাও নিষিদ্ধ আতশ বাজি পোড়ানোর অভিযোগ আসতে থাকে। বরাবরের মতো অভিযোগ বেশি এসেছে আবাসন থেকে। অনেক আবাসনেই বাজি ফাটানো নিয়ে আবাসিকদের মধ্যে গোলমাল, হাতাহাতি হয়।
শুধু দিল্লি নয়, এবার কালীপুজোর রাতে উত্তর ভারতের বেশিরভাগ শহরেই বাজির তাণ্ডবের শিকার হয়েছেন মানুষ। বাজি পোড়ানোকে কেন্দ্র করে আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম, সব প্রান্তেই। তবে দিল্লির পরই এই ধরনের ঘটনায় এগিয়ে ছিল উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা। এই সব রাজ্যের পুলিশ এবং দমকল বাহিনী জানিয়েছে, বছর দশেক আগে এবারের মতো বাজির তাণ্ডব হয়েছিল। ওই সব রাজ্যেই বাজি ফাটানো নিয়ে শুক্রবার সকালেও ঘন ঘন ফোন এসেছে।