মোবাইলে হঠাৎ নেটওয়ার্ক চলে যাওয়ায় বিপত্তি। মুম্বইয়ের এক মহিলা ই-সিম জালিয়াতির ফাঁদে পড়ে কয়েক মিনিটেই খুইয়ে ফেললেন ১১ লাখ টাকা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 12 February 2026 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোবাইলে হঠাৎ নেটওয়ার্ক (Network) চলে গিয়েছে, ভাবছেন সামান্য টেকনিক্যাল সমস্যা? মুম্বইয়ের (Mumbai) এক মহিলার ক্ষেত্রে সেই ভুল ধারণাই হল কাল। কয়েক মিনিটে হাপিস ১১ লক্ষ টাকা।
জানা গেছে, ই-সিম জালিয়াতির (e-SIM Fraud) নতুন কৌশলে ফাঁদ পেতে বসেছিল সাইবার অপরাধীরা। ঘটনায় সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাইবার সুরক্ষা শাখা I4C (Indian Cyber Crime Coordination Centre)।
I4C-এর সরকারি এক্স (X) হ্যান্ডলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, মহিলাকে টার্গেট করা হয় ই-সিম প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। অভিযোগ, টেলিকম সংস্থার কাস্টমার কেয়ার (Customer Care) প্রতিনিধি সেজে ফোন করে প্রতারকরা তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়। কখনও নেটওয়ার্ক ঠিক করার নাম করে, কখনও বা সিম আপগ্রেডের (SIM Upgrade) ছুতোয়। এরপরই তাঁর নামে জারি করা হয় নতুন ই-সিম। ফলে মহিলার মূল নম্বর চলে যায় প্রতারকের নিয়ন্ত্রণে। আর সেই সুযোগেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও ১১ লক্ষ টাকা।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-সিম প্রতারণা মূলত সিম-সোয়াপ (SIM Swap) কেলেঙ্কারির নতুন রূপ। মোবাইল নম্বর দখলে নিতে পারলেই প্রতারকরা সহজেই পেয়ে যায় ওটিপি (OTP), তারপর ব্যাঙ্কিং তথ্য, তার পরেই আর্থিক সর্বনাশ।
টেলিকম অপারেটরদের (Telecom Operators) পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ, কোনও সংস্থা ফোন করে সিম আপগ্রেড করতে বলে না। যদি কল বা ডেটা নিয়ে সমস্যা হয়, সরাসরি কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করতে হবে, প্রয়োজনে নিকটবর্তী স্টোরে যেতে হবে। সন্দেহজনক নম্বর থেকে আসা এমন ফোন কল এড়ানোই একমাত্র উপায়।
টেলিকম দফতরের (Department of Telecommunications) নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ কোম্পানি বা ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত ফোন আসে ১৬০০ বা ১৪০ সিরিজের নম্বর থেকে। প্রতারকরা সাধারণত ল্যান্ডলাইন বা ১০ অঙ্কের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে।
যদি এমন সন্দেহজনক কল আসে, তৎক্ষণাৎ রিপোর্ট করুন সঞ্চার সাথী (Sanchar Saathi) অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে। অথবা সরাসরি সাইবার হেল্পলাইন ১৯৩০ (Cybercrime Helpline 1930) নম্বরে ফোন করুন। দ্রুত অভিযোগ জানানোই আরও বড় জালিয়াতি আটকানোর প্রথম ধাপ।