যুবতীর সরলতায় ভুলে সর্বশান্ত হতে হল ২৫ যুবককে। বিয়ের পরই গয়না, নগদ লুট করে চম্পট দিতেন যুবতী।

ছবি-এআই
শেষ আপডেট: 20 May 2025 19:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনুরাধা পাসোয়ান- দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। বাড়িতে বেকার দাদা। দিন আনে দিন খায় অবস্থা। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার পথে বাধা অভাব-অনটন। যুবতীর সরলতায় ভুলে সর্বশান্ত হতে হল ২৫ যুবককে। বিয়ের পরই গয়না, নগদ লুট করে চম্পট দিতেন যুবতী। অবশেষে পুলিশের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ধরা পড়লেন অনুরাধা (Cops Came Up With A Decoy Groom)।
পুলিশ সূত্রে খবর, ভুয়ো বিয়ের গ্যাংয়ের মূল মাথা এই অনুরাধা পাসোয়ান। শহর শহর ঘুরে টার্গেট সেট করত তারা। দলটি পাত্রের কাছে অনুরাধার ছবি নিয়ে যেত। নানান কথায় ভুলিয়ে বিয়ের জন্য রাজি করাত। ঘটক সেজে থাকা ব্যক্তি এই কাজের জন্য পাত্রের পরিবারের জন্য দু'লক্ষ টাকাও নিতেন।
ঘরোয়াভাবেই বিয়ের প্রস্তাব দিত গ্যাংটি (Looteri Dulhan)। মন্দিরে বা পাত্রের বাড়িতেই বিয়ে করানো হত। পাত্রের পরিবারের সকলের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করতেন অনুরাধা। তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করাই ছিল মূল লক্ষ্য। ক'দিন পেরিয়ে গেলেই খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে দিতেন তিনি। বাড়ি থেকে সমস্ত নগদ টাকা ও গয়না নিয়ে চম্পট দিতেন।
গত ২০ এপ্রিল সাবাই মাধোপুরের বাসিন্দা বিষ্ণু শর্মার সঙ্গে বিয়ে হয় অনুরাধার (Anuradha Paswan)। অল্প কয়েকজনের উপস্থিতিতেই চার হাত এক হয়েছিল তাঁদের। বিয়ের দু'সপ্তাহের মধ্যেই দেড় লক্ষ টাকার গয়না, ৩০ হাজার টাকা গয়না এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশের কাছে বিষ্ণু জানিয়েছেন, 'আমার একটি দোকান আছে। বিয়ের খরচ মেটাতে লোন নিয়েছিলাম। নতুন একটা ফোন কিনেছিলাম। সেটাও নিয়ে গেছে।' ঘটনার দিন কাজ থেকে ফিরে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তিনি। বিষ্ণু বলেছেন, 'আমি আগে কখনও এত তাড়াতাড়ি ঘুমাই না। কিন্তু ওইদিন আমি একটা বাচ্চার মতো ঘুমিয়েছি, মনে হয়েছিল যেন কেউ আমাকে ঘুমের ওষুধ দিয়েছে।'
জানা গিয়েছে, গত কয়েকমাস ধরেই পুলিশের কাছে এই একই ধরনের একাধিক অভিযোগ আসছিল। কিন্তু কোনওভাবেই অভিযুক্ত গ্যাংয়ের সন্ধান পায়নি। 'লুটেরি দুলহান'কে ধরতে ফাঁদ পাতে রাজস্থান পুলিশ। এক কনস্টেবলকে পাত্র সাজানো হয় (Cops Came Up With A Decoy Groom)। ভুল করে তাঁকেই 'টার্গেট' বানিয়ে ফেলে অনুরাধার গ্যাং। এরপর একই পন্থায় গোটা বিষয়টি বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। বিয়ের দিনই অনুরাধা পাসোয়ান-সহ তাঁর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তাঁকে জেল হেফাজতে রাখা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসা করে সম্পূর্ণ তথ্য জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা।