গত ১৪ মার্চ দিল্লিতে বিচারপতি ভার্মার সরকারি বাসভবনে আগুন লাগার পর দমকল কর্মীরা ঘরের এক অংশে দেড় ফুট উঁচু নগদের স্তূপ দেখতে পান। সে সময় বিচারপতি বাড়িতে ছিলেন না।

বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা
শেষ আপডেট: 12 August 2025 18:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার (Justice Yashwant Varma) বাসভবন থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধার ইস্যুতে ইমপিচমেন্ট (Impeachment) প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করল লোকসভা (Lok Sabha)। মঙ্গলবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Speaker Om Birla) তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের (3 Member Panel) ঘোষণা করেন।
স্পিকার ঘোষিত এই প্যানেলে রয়েছেন - সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার, মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মনিন্দর মোহন এবং প্রবীণ আইনজীবী বি ভি আচার্য। স্পিকার জানান, ১৪৬ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার পর কমিটির রিপোর্ট সংসদে পেশ করা হবে।
ভারতের সংবিধানের ১২৪(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতির ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। লোকসভার গঠিত কমিটি প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষীদের জেরা করার ক্ষমতা রাখে। দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কক্ষে প্রস্তাব গৃহীত হবে, এরপর তা অপর কক্ষেও ভোটে তোলা হবে। দুই কক্ষেই উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন পেলে বিচারপতিকে অপসারণ করা যাবে। সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষের সমর্থন থাকায় প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্ন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
ঠিক কী ঘটেছে
গত ১৪ মার্চ দিল্লিতে বিচারপতি ভার্মার সরকারি বাসভবনে আগুন লাগার পর দমকল কর্মীরা ঘরের এক অংশে দেড় ফুট উঁচু নগদের স্তূপ দেখতে পান। সে সময় বিচারপতি বাড়িতে ছিলেন না। ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে দিল্লি হাইকোর্ট থেকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে স্থানান্তর করে এবং সব কাজ থেকে অব্যাহতি দেয়।
এরপর শীর্ষ আদালত ৫৫ জন সাক্ষীর বয়ান নিয়ে একটি ইন-হাউস তদন্তে জানায়, নগদ রাখা ঘরের উপর বিচারপতি ও তাঁর পরিবারের 'সরাসরি নিয়ন্ত্রণ' ছিল এবং অভিযোগে যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। তদন্ত কমিটি তাঁর অপসারণের সুপারিশ করে।
যদিও বিচারপতি ভার্মা অভিযোগ করেন, তদন্ত প্রক্রিয়া পক্ষপাতদুষ্ট ছিল এবং তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে জানায়, সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি।