দুই স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা মহিলাকে খুন করে দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত এক রেলকর্মীর বিরুদ্ধে। ঝাঁসির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে যোগী রাজ্যে।

মৃত প্রীতি ও অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী
শেষ আপডেট: 19 January 2026 08:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। শুরু করেন একসঙ্গে থাকা। ঝাঁসিতে সেই লিভ-ইন সঙ্গীকেই খুন করে বাক্সবন্দি করলেন অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী। এক লরি চালকের সন্দেহে ফাঁস হয় গোটা ঘটনা।
রাম সিং পরিহার। অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী। তাঁর দু’টি বিয়ে রয়েছে, এক স্ত্রী থাকেন সিপ্রি বাজার (Sipri Bazaar) এলাকায়, অন্যজন সিটি কোতোয়ালি (City Kotwali) এলাকায়। দুদিকেই সমানতালে সামলাচ্ছিলেন পরিহার। মাঝে আরেক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। ৩৫ বছরের প্রীতিকে কাঁধছাড়া করতে চাননি তাই লিভ-ইনে থাকা শুরু করেন।
চলতি মাসের ৮ জানুয়ারি প্রীতিকে খুন করা হয়। অভিযোগ, টাকার জন্য তিনি মাঝেমধ্যেই পরিহারের উপর চাপ দিতেন। লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়ার পরও মেটেনি চাহিদা। আরও টাকা দাবি করছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সেই বিবাদ থেকেই সম্পর্ক খারাপ হয় এবং খুনের ছক কষেন পরিহার।
খুনের পর দেহ প্রথমে ত্রিপলে মুড়ে রাখা হয়েছিল। পরে একটি ধাতব ট্রাঙ্কের (metal trunk) ভিতর শুইয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। দেহ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হওয়ার পর ছাই বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে কিছু হাড় ও দেহাংশ ওই বাক্সের মধ্যে থেকে গেছিল। ফলে পুরোপুরি প্রমাণ লোপাট সম্ভব হয়নি।
এই ভয়ঙ্কর ঘটনার পর্দা ফাঁস হয় শনিবার রাতে। রাম সিং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী গীতার (Geeta) বাড়িতে বাক্সটি পাঠানোর পরিকল্পনা করেন। সেই কাজের জন্য একটি লরি ভাড়া করা হয়। অভিযুক্তের ছেলে নীতিন (Nitin) এবং আরও কয়েকজন সেই বাক্স নিয়ে যান। তবে লরি চালক জয় সিং পালের (Jaysingh Pal) সন্দেহ হয়। বাক্স থেকে তরলের মতো কিছু বেরোতে দেখে সেই সন্দেহ চরমে ওঠে।
মাত্র ৪০০ টাকার বিনিময়ে মালপত্র সরানোর কথা ছিল কিন্তু পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তিনি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে (police control room) ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে গীতার বাড়ির সামনে থেকে ওই বাক্সটি উদ্ধার করে। বাক্স খুলতেই বেরিয়ে আসে পোড়া মানবদেহাংশ, হাড়ের টুকরো এবং কয়লার মতো পদার্থ।
ঝাঁসি শহরের পুলিশ সুপার (City) প্রীতি সিং (Preeti Singh) জানিয়েছেন, ফরেনসিক টিম (forensic team) দেহাংশ সংগ্রহ করেছে। অভিযুক্তের ছেলে-সহ দু’জনকে আটক করা হয়েছে। প্রতিবেশী সুরভি (Surbhi) জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরেই রাম সিং প্রচুর জ্বালানি কাঠ জোগাড় করছিলেন। অদ্ভুত গন্ধ পেলেও তাঁরা ভেবেছিলেন শীতের জন্য আগুন জ্বালানো হচ্ছে, পোহাবেন হয়তো।
এই ঘটনায় মৃত প্রীতির প্রাক্তন স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত রাম সিং পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে ঝাঁসি পুলিশ। কেন এই খুন, আর কেউ জড়িত কি না, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।