মহিলার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সংসারে অশান্তি শুরু হয় তাঁদের। তাঁকে পরিবারে খাটো করে দেখানো হত। যেতে দেওয়া হত না রান্নাঘরে।

মহিলাকে বাড়িতে রান্না করতে না দেওয়া অপরাধ (প্রতীকী ছবি)
শেষ আপডেট: 9 April 2026 14:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও মহিলাকে তাঁর বাড়িতে রান্না করতে না দেওয়া অপরাধ। এক মহিলার করা মামলায় জানিয়ে দিল বম্বে হাইকোর্ট (Bombay High Court ruling wife harassment)। আদালতের বক্তব্য, এটা এক ধরনের মানসিক নির্যাতন (mental cruelty marriage India)। যা আদতে কোনও মহিলার সঙ্গে করা যায় না।
ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের। ২০২২ সালের নভেম্বরে ওই দম্পতির বিয়ে হয়। মহিলার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সংসারে অশান্তি শুরু হয় তাঁদের। তাঁকে পরিবারে খাটো করে দেখানো হত। কিছুই স্বাধীনভাবে করতে পারতেন না। নিজের মতো রেঁধে খাওয়াও না। আর সেটা নিয়েই ধীরে ধীরে মানসিক অবসাদ শুরু হয়।
আদালতে তিনি জানান, তাঁকে রান্নাঘরে ঢুকতেই দেওয়া হত না। নিজের বাড়িতে রান্না করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, ফলে বাইরে থেকে খাবার আনতে বাধ্য করা হত। পাশাপাশি তাঁর গয়নাগাটি বাড়ির বাইরে ফেলে দেওয়া, বাবার বাড়িতে যেতে বাধা দেওয়া এবং ক্রমাগত বিবাহবিচ্ছেদের জন্য চাপ তৈরি করত শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
এই অভিযোগ তুলে স্বামীর বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলা এগোলে স্বামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তিনি আগে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করায় প্রতিশোধ নিতে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি উর্মিলা যোশী-ফালকের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, স্ত্রীর উপর ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা, চলাফেরায় বাধা দেওয়া এবং সংসারের মৌলিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত করা—এসবই মানসিক নির্যাতনের স্পষ্ট উদাহরণ। ফলে স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগ খারিজ করার আবেদন নাকচ করে দেয় আদালত।
বদলে জানিয়ে দেওয়া হয়, ফৌজদারি আইনে এই ধরনের নির্যাতন রুখতেই সংশ্লিষ্ট ধারা যুক্ত করা হয়েছিল, যাতে বিবাহিত মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
তবে শাশুড়ির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ক্ষেত্রে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন আইনজীবীরা। স্ত্রীর অভিযোগে শাশুড়ির ভূমিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের। শুধুমাত্র স্বামীর মা হওয়ায় তাঁকে অভিযুক্ত করা যায় না—এই যুক্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগ খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই রায়ে স্পষ্ট বার্তা দিল আদালত— গৃহবধূর মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার খর্ব করা হলে তা আইনের চোখে গুরুতর অপরাধ হিসেবেই গণ্য হবে।