উঠে এসেছে আরও কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ, তাতেই তোলপাড় পুলিশ মহল।

শেষ আপডেট: 27 November 2025 23:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিয়ানার পর এবার কেরল (Kerala)! ফের এক পুলিশের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা (Kerala police suicide)। তবে এইবার উঠে এসেছে আরও কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ, তাতেই তোলপাড় পুলিশ মহল।
চেরপুলাসেরি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) বিনু থমাসের (৫২) আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন করে সামনে এল নতুন তথ্য। ওই ঘটনায় ৩২ পাতার একটি সুইসাইড নোট (Kerala SHO suicide note) উদ্ধার হয়েছে, যেখানে এক শীর্ষ পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে যৌন শোষণ, ভয় দেখানো, মানসিক অত্যাচার এবং দীর্ঘদিনের নিপীড়নের অভিযোগ (DSP sexual exploitation allegation) তুলেছেন ওই স্টেশন অফিসার।
গত ১৫ নভেম্বর নিজের সরকারি কোয়ার্টারে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বিনু থমাসের দেহ। প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল, কাজের চাপেই এই চরম পদক্ষেপ। কিন্তু সুইসাইড নোট প্রকাশ্যে আসতেই পুরো তদন্তই অন্য মোড় নেয়। অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানগত অত্যাচার ও ঘটনার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে।
সুইসাইড নোটে বিনু লিখেছেন, বর্তমানে কোঝিকোডে কর্মরত এক ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি), যিনি ২০১৪ সালে সাব-ইনস্পেক্টর ছিলেন, পালক্কাডের একটি মামলায় গ্রেফতার এক তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন।
নোট অনুযায়ী, সেই ডিএসপি এক সন্ধ্যায় ওই তরুণীর বাড়িতে যান, তখন বাড়িতে ছিলেন শুধু তাঁর মা ও দুই সন্তান। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে জোরজবরদস্তি করেন বলে দাবি। আরও অভিযোগ, মামলাটি চাপা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এবং মিডিয়ায় কিছু না ছড়ানোর হুমকি দিয়ে তাঁকে বাধ্য করা হয় অত্যাচার মেনে নিতে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ, ওই শীর্ষ পুলিশ কর্তা নাকি বিনুকে চাপ দিয়েছিলেন তরুণীকে শোষণ করতে তাঁর জন্য ‘সহায়তা’ করতে। এই ঘটনায় বিনু ভীষণ মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, এবং এখান থেকেই শুরু তাঁর তীব্র মানসিক যন্ত্রণা।
নোটে আরও উল্লেখ, বছর ধরে এই ডিএসপি তাঁকে ভয় দেখাতেন, চুপ করে থাকতে চাপ দিতেন, এবং অস্বচ্ছ নানা কাজে তাঁকে জড়াতে চাইতেন। সব মিলিয়ে, বিনুর মানসিক অবস্থা ক্রমশ ভেঙে যেতে থাকে, যার পরিণতিই তাঁর আত্মহত্যা।
আরও মারাত্মক অভিযোগ, বিনুর মৃত্যুর পর এই সুইসাইড নোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তদন্তের প্রথম দফায় নাকি কয়েকটি পৃষ্ঠা ইচ্ছে করে গোপন রাখা হয়, যাতে অভিযুক্ত শীর্ষ কর্তা রক্ষা পান।
নোট ফাঁস হতেই রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। উচ্চপর্যায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অভিযুক্ত ডিএসপিকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন, এমন অভিযোগও উঠছে। ঘটনার গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত অফিসারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।
সরকারি দফতরের তরফে এখনই কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে আইনগত এবং বিভাগীয় তদন্ত দ্রুতই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।