২০২০ সালে অবসর নেওয়ার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের প্রথম পরীক্ষায় তিনি লড়বেন মূলত স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়নের কাজকে সামনে রেখে। শ্রীলেখা দাবির, তাঁকে প্রার্থী করা ঐতিহাসিক—“ভারতের কোথাও পঞ্চায়েত নির্বাচনে অবসরপ্রাপ্ত IPS-কে প্রার্থী করা হয়নি। বিজেপি আমাকে তৃণমূল স্তরে কাজের সুযোগ দিয়েছে।”

শেষ আপডেট: 17 November 2025 11:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় শ্রীলেখা নামটি শুনলেই অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রর কথা মনে পড়ে। শ্রীলেখা মনেপ্রাণে বামপন্থী। আরও স্পষ্ট করে বললে সিপিএম। তাদের হয়ে প্রচারেও বেরিয়েছেন বেশ কয়েকবার। কেরলে আর এক শ্রীলেখা আবার সিপিএম-কে নাস্তানাবুদ করতে নেমে পড়েছেন। কেরলের পুলিশ–ইতিহাসে এই শ্রীলেখার শ্রীলেখা (Raid Sreelekha) নাম একাধিক ‘প্রথম’-এর সঙ্গে জড়িয়ে, সেই প্রাক্তন ডি-জিপি এবার রাজনীতিতে। অবসরের ৫ বছর পর প্রথমবার তিনি নামছেন ভোটের লড়াইয়ে। তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনের সাস্তামঙ্গলম ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন কেরলের এই প্রথম মহিলা আইপিএস ( IPS) অফিসার।
১৯৮৭ ব্যাচের এই অফিসার কেরলে প্রথম মহিলা IPS এবং ২০১৭ সালে প্রথম মহিলা ডি-জিপি হয়ে নজির গড়েন। পরিবহণ কমিশনার হিসেবে থাকাকালীন রাস্তায় দুর্ঘটনা কমানো ও রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে স্বীকৃত হয়েছিল। সিবিআইয়ে ডেপুটেশনে ‘হাই-ভিজিবল’ অভিযানের জন্য তিনি পেয়েছিলেন ‘রেড শ্রীলেখা’ (Raid Sreelekha) নাম।
অবসরের পর রাজনীতিতে ময়দানে শ্রীলেখা
২০২০ সালে অবসর নেওয়ার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের প্রথম পরীক্ষায় তিনি লড়বেন মূলত স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়নের কাজকে সামনে রেখে। শ্রীলেখা দাবির, তাঁকে প্রার্থী করা ঐতিহাসিক—“ভারতের কোথাও পঞ্চায়েত নির্বাচনে অবসরপ্রাপ্ত IPS-কে প্রার্থী করা হয়নি। বিজেপি আমাকে তৃণমূল স্তরে কাজের সুযোগ দিয়েছে।”
তিরুবনন্তপুরম দখলে বিজেপির নজর
কেরলে এখনও বড় সাফল্য পায়নি বিজেপি। এবার পঞ্চায়েত ভোটে ২৫% ভোট শেয়ার পাওয়ার আকাঙ্খা রয়েছে তাদের। ত্রিশূর থেকে ২০২৪ লোকসভায় প্রথমবার জয়ের পর তারা আরও জমি বাড়াতে চাইছে। স্থানীয় নেতাদের দাবি, স্বয়ং অমিত শাহ এই নির্বাচনের ওপর নজর রাখছেন। শ্রীলেখা প্রার্থী হওয়ায় তাঁরা চিন্তিত নন বলেই সিপিএম নেতাদের দাবি। দলের রাজ্য সম্পাদক এম.ভি. গোবিন্দনের বক্তব্য—“আইপিএস হোন বা ডিজিপি, তাতে কিছু আসে যায় না। আমাদের প্রার্থীরা বহুদিন ধরে মানুষের সঙ্গে কাজ করছেন।”
জোরদার প্রচারে ‘গেরুয়া’ শ্রীলেখা
১২ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে তাঁর প্রচার। দরজায় দরজায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। অনেকেই তাঁকে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। “আগে খাকি পরতাম, এখন গেরুয়া— এতটাই পার্থক্য,”— বলছেন শ্রীলেখা। দলের দাবি, তাঁর পরিচিতি এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিজেপির সংগঠনে নতুন শক্তি জোগাবে। তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনের ১০০টি ওয়ার্ডে এখন বিজেপির ৩৫ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। শ্রীলেখার লড়াই মূলত বাম-ফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে, যারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছেন।
৩৩ বছরের কর্মজীবনে শ্রীলেখা প্রশংসা যেমন পেয়েছেন, তেমনি বিতর্কও কম হয়নি। ২০১৬ সালে তিনি অভিযোগ করেন, সহকর্মী টোমিন থাচানকারি তাঁকে প্রায় তিন দশক ধরে হয়রানি করেছেন। ২০২২ সালে মালয়ালম মাধ্যমে সাক্ষাৎকারে অভিনেতা দিলীপকে ২০১৭ সালে জেলবন্দি অবস্থায় সাহায্য করার কথা বলেন তিনি। একই সাক্ষাৎকারে পুলিশবিভাগে নারী-অফিসারদের উপর যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে বিতর্কে জড়ান। কেরল পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন অবশ্য তাঁর অভিযোগ অস্বীকার করে। তাঁর কথায়, “পুলিশে মহিলা হওয়া মানেই বাধা। কিন্তু রাজনীতিতে ৫০% সংরক্ষণ আছে। সকাল ৭টা থেকে বহু মহিলা আমার সঙ্গে প্রচারে হাঁটছেন। এখানে সমান সুযোগ।”
এবার দেখার, ‘রেইড শ্রীলেখা’ বিজেপিকে জয়ের পথ দেখাতে পারেন কিনা।