প্রথমবারের জন্য তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশন বামফ্রন্টের হাত থেকে ছিনিয়ে নিল গেরুয়া শিবির। তিরুবনন্তপুরমে ৪৫ বছর ধরে আধিপত্য ছিল বামেদের। সেই দুর্গ ভেঙে দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বিজেপি।

শেষ আপডেট: 13 December 2025 19:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের রাজনীতিতে অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে গেল শনিবার। এই প্রথম বার কেরলে পুরভোটে (Kerala election results) বড়সড় সাফল্য পেল বিজেপি (BJP)। প্রথমবারের জন্য তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশন (Thiruvananthapuram Corporation) বামফ্রন্টের হাত থেকে ছিনিয়ে নিল গেরুয়া শিবির। তিরুবনন্তপুরমে ৪৫ বছর ধরে আধিপত্য ছিল বামেদের। সেই দুর্গ ভেঙে দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বিজেপি (BJP)।
তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়
১০১টির মধ্যে ৫০টি ওয়ার্ড জিতে এনডিএ (NDA) হয়ে উঠেছে একক বৃহত্তম জোট। এলডিএফ নেমে এসেছে ২৯ আসনে। কংগ্রেস–নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ পেয়েছে ১৯টি এবং নির্দলরা পেয়েছে ২টি আসন। একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় একটি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ বাতিল হয়েছে।
তাৎপর্য হল— তিরুবনন্তপুরম কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের (Shashi Tharoor) ‘হোম টার্ফ’। সেই তিরুবনন্তপুরমেই বিজেপির এই ঐতিহাসিক উত্থান কেরলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ত্রিপুণিথুরা পৌরসভাও এনডিএ-র দখলে
এরনাকুলামের ত্রিপুণিথুরা পৌরসভাতেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এনডিএ। ৫৩ সদস্যের কাউন্সিলে এনডিএ পেয়েছে ২১টি আসন, এলডিএফ পেয়েছে ২০টি, ইউডিএফের দখলে গেছে ১২টি আসন। ত্রিপুণিথুরা পৌরসভা এই প্রথমবার দখল করল বিজেপি।
২০২০ সালে ৪৯টি ওয়ার্ডের পৌরসভায় সিপিএম ছিল সবচেয়ে বড় দল (২৩ আসন), বিজেপি পেয়েছিল ১৭টি। এ বছর ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটা বিন্যাসে যে বদল ঘটে গেছে তা এই ফলাফলে স্পষ্ট।
পালাক্কড়ে ক্ষমতা ধরে রাখল বিজেপি
পালাক্কড় পৌরসভায় এনডিএর আধিপত্য বজায় থাকল। বিজেপি পেয়েছে ২৫টি আসন, ইউডিএফ ১৮টি, এলডিএফ পৌঁছে গেছে শেষ স্থানে। বামেরা মাত্র ৯টি আসনে জিতেছে।কেরলে বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী শহরভিত্তিক সংগঠনের মধ্যে পালাক্কড় অন্যতম। এদিনের ফলাফল তা আরও পোক্ত করে দিল।
ফল প্রকাশের পর শশী থারুর বলেন, “কেরলের গণতন্ত্র আজ অসাধারণ ফল দেখাল। ভোটাররা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।” তিনি কংগ্রেস–জোটের সামগ্রিক সাফল্যকে অভিনন্দন জানান এবং একসঙ্গে স্বীকার করেন—তিরুবনন্তপুরমে বিজেপির জয় ‘ঐতিহাসিক’, যা রাজ্য রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। থারুর আরও বলেন, “৪৫ বছরের এলডিএফ শাসন পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলাম। ভোটাররা পরিবর্তন চেয়েছেন, তাকে সম্মান করতেই হবে।”
২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে তাৎপর্যপূর্ণ সংকেত
কেরল স্থানীয় নির্বাচনে মোট ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৭৩.৬৯ শতাংশ। দুই দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছিল ৯ ও ১১ ডিসেম্বর। তিরুবনন্তপুরম, ত্রিপুণিথুরা ও পালাক্কড়ে সাফল্যে বিজেপির মনোবল নিঃসন্দেহে বাড়বে। এখন দেখার—২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই নগরভিত্তিক অগ্রগতি কতটা প্রভাব ফেলে। কেরলের রাজনৈতিক মানচিত্রে যে নতুন গোলার্ধ তৈরি হল, তার কেন্দ্রবিন্দু এখন স্পষ্ট—নগরাঞ্চলে বিজেপির উত্থান আর এলডিএফের দুর্বলতা পরিষ্কার ভাবে দেখা যাচ্ছে।