এলডিএফের তুলনায় বাকি আসনগুলিতে তারা অনেকটা এগিয়ে আছে। তিরুবনন্তপুরমে গত ৪৫ বছর ধরে ক্ষমতাসীন সিপিএম তথা এলডিএফ।

শেষ আপডেট: 13 December 2025 12:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের রাজধানী তিরুবনন্তপুরমে ইতিহাস গড়তে চলেছে বিজেপি। তিরুবনন্তপুরম পুর নিগমের ভোটে সিপিএমের নেতৃত্বাধীন শাসক জোট এলডিএফকে অনেকটা পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি। ১০১টি ওয়ার্ডের ওই পুর নিগমে বোর্ড গড়তে প্রয়োজন ৫১ সদস্যের সমর্থন। বিজেপি ইতিমধ্যে ৪৫টি আসনে জিতে গিয়েছে। এলডিএফের তুলনায় বাকি আসনগুলিতে তারা অনেকটা এগিয়ে আছে। তিরুবনন্তপুরমে গত ৪৫ বছর ধরে ক্ষমতাসীন সিপিএম তথা এলডিএফ।
শুধু রাজধানীর পুর নিগমই নয়, গোটা রাজ্যেই ধাক্কা খেতে চলেছে ক্ষমতাসীন সিপিএম। রাজ্যের বাকি অংশে ভালো মার্জিনে এগিয়ে আছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউডিএফ। কেরলে একইসঙ্গে পঞ্চায়েত ও পুরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি সিপিএমের হাতে থাকা একমাত্র বাম দুর্গ কেরল। মাস তিনেক পর রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন। সভাপতি বামেদের খারাপ ফল নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০১১ সালে বাংলায় সিপিএম শাসনের অবসানের প্রথম ইঙ্গিত মিলেছিল তিন বছর আগে ২০০৮ -এর পঞ্চায়েত ভোটে। সেই নির্বাচনে গ্রাম বাংলার বিশেষ করে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে অর্ধেকের কাছাকাছি আসন তৃণমূল কংগ্রেস দখল করেছিল। পরের বছর অনুষ্ঠিত লোকসভা ভোটে বড় ধাক্কা খায় বামেরা। এরপর ২০১০ এ পুরসভার নির্বাচনেও বিপর্যয় ঠেকাতে ব্যর্থ বামেরা ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যায়। এবার কেরলেও সরকার হাত ছাড়া হয় বামেদের। সিপিএমের শাসন বজায় ছিল শুধুমাত্র ত্রিপুরায়। ওই পার্বত্য রাজ্যে ক্ষমতা হাতছাড়া হলেও কেরালায় সিপিএমের ঘুরে দাঁড়ায় এবং টানা ১০ বছর তারা সেখানে সরকার চালাচ্ছে। শনিবার পঞ্চায়েত ও পুরসভার ভোটের ফলের প্রবণতা এবং কিছু আসনে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর জল্পনা শুরু হয়েছে দেশের এই একমাত্র রাজ্যের টিকে থাকা বাম শাসনের কি অবসান হতে চলেছে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে?
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ৪৩৯টি আসনে এগিয়ে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিপিএমের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ। তারা এগিয়ে ৩৭৩ আসনে। পঞ্চায়েতে আবার অনেকটা পিছনে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ। তারা এগিয়ে আছে মাত্র ২৩। পঞ্চায়েত সমিতিতেও ক্ষমতাসীন এলডিএফ এর তুলনায় অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে ইউডিএফ। তারা ৮১টি আসনে এগিয়ে আছে। ২৩টিতে এগিয়ে এলডিএফ। পঞ্চায়েত সমিতিতে এখনও বিজেপি খাতা খুলতে পারেনি।
অন্যদিকে জেলা পরিষদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে ইউডিএফ ও এলডিএফের মধ্যে। জেলা পরিষদের ১৪ টি আসনের মধ্যে ইউডিএফ এগিয়ে আটটিতে। কয়টিতে এগিয়ে এলডিএফ।অন্যদিকে, রাজ্যের ৮৭টি পুরসভার মধ্যে ৫৫টিতে এগিয়ে গিয়েছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। মাত্র ২৮টিতে এগিয়ে এলডিএফ। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এগিয়ে রয়েছে দুটিতে।
তিরুবনন্তপুরম সহ কেরালায় পুর নিগমের সংখ্যা ছয়টি। এর মধ্যে চারটিতে এগিয়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। বাকি দুটির একটি করে কর্পোরেশনে এগিয়ে আছে এলডিএফ এবং এনডিএ।