
শেষ আপডেট: 21 December 2023 13:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ১৩ ডিসেম্বর লোকসভার শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন সংসদ কক্ষের ভিতরে ঢুকে দর্শকদের বসার আসন থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন দুই যুবক। সেই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গেছে গোটা দেশে। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচে তৈরি নতুন সংসদ ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ছ'জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ পর বুধবার রাতে কর্নাটকের বগলকোট থেকে আরও একজনকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। ধৃত যুবক পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। শুধু তাই নয়, তিনি এক প্রাক্তন উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তার ছেলে।
সাইকৃষ্ণ জাগালি নামে ওই যুবক সংসদ কাণ্ডে ধৃত ডি মনোরঞ্জনের বন্ধু বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। সেদিন সংসদ ভবনের একেবারে ভিতরে ঢুকে 'তানাশাহি নেহি চলেগা' স্লোগান তুলে ক্যানিস্টার থেকে রঙিন গ্যাস স্প্রে করেছিল মনোরঞ্জন। সে সহ আরও তিনজনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন এবং ইউএপিএ আইনের ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। এই মনোরঞ্জনের কাছ থেকেই খোঁজ মিলেছিল সাইকৃষ্ণের। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, দুজনেই ব্যাঙ্গালোরের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়াশোনা করত। সেখান থেকেই তাদের আলাপ হয়।
বুধবার রাতে আটক করার পর আজ বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নিয়ে আসা হচ্ছে সাইকৃষ্ণকে। সাইকৃষ্ণের বাবা বর্তমানে অবসর গ্রহণ করেছেন। তবে চাকরি জীবনে তিনি ছিলেন ডেপুটি পুলিশ সুপার। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার সাইকৃষ্ণ বাড়ি থেকে কাজ করত। তার বোন স্পন্দা সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, তাঁর দাদা কোনও ভুল কাজ করেননি।
"এটা ঠিক যে দিল্লি পুলিশ বাড়িতে এসেছিল। দাদাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আমরা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছি। সাইকৃষ্ণ কোনও ভুল করেনি। ও আর মনোরঞ্জন রুমমেট ছিল। এখন আমার দাদা বাড়ি থেকেই কাজ করে," জানিয়েছেন তরুণী।
বুধবারের সংসদ হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেদিনের ঘটনার মাস্টারমাইন্ড বলা হচ্ছে যে ললিত ঝা-কে, তার আবার বাংলা যোগ রয়েছে। বছরখানেক আগে কলকাতার বড়বাজারের কাছে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকত সে। সেখানে কয়েকজন বাচ্চাকে টিউশন পড়াত ললিত। পরে অবশ্য ভাড়া বাড়ি ছেড়ে চলে যায়।
১৩ তারিখ যখন তার দুই বন্ধু সংসদের ভিতর ধুন্ধুমার বাঁধিয়েছে, তখন বাইরে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে দিতে পুরো ঘটনা ভিডিও রেকর্ড করেছিল ললিত। সেই ভিডিও সে পাঠিয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরের বাসিন্দা নীলক্ষ আইচ নামে এক কলেজ পড়ুয়াকে। ইতিমধ্যেই নীলাক্ষর বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গেও কথা বলেছেন দিল্লির পুলিশের গোয়েন্দারা।
এখনও পর্যন্ত যা জানা গেছে, তাতে সেদিনের ঘটনায় কারও প্রাণ কিংবা সম্পত্তিহানি করার উদ্দেশ্য ছিল না ধৃতদের। তাদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছে যারা উচ্চশিক্ষিত হয়েও চাকরি পায়নি। এছাড়া মণিপুরের ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা, বেকারত্ব, কৃষকদের সমস্যা সহ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ এবং গোটা দেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছিলে বলে দাবি করেছে অভিযুক্তরা। বিষয়টির তদন্ত করছে দিল্লি পুলিশ।